
খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
প্রশাসনের নিষেধ, একাধিকবার সরেজমিনে পরিদর্শন—তারপরও যদি নদ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ না হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই, কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়? দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার জিয়া সেতু-সংলগ্ন আত্রাই নদে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম প্রধানের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের নিষেধ উপেক্ষা করে বারবার বালু উত্তোলন চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে নদ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আত্রাই নদে বালু উত্তোলন বন্ধে খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান সরকার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) অয়ন ফারহান শামস একাধিকবার সরেজমিনে গিয়ে নিষেধ করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নির্দেশে সাময়িকভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ রাখা হলেও পরে আবারও ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার নিষেধ করার পরও যদি একই কার্যক্রম চলতে থাকে, তাহলে সেই নির্দেশ বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, বালু উত্তোলন বন্ধে বারবার নিষেধ করাই কি যথেষ্ট, নাকি তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি?
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় এক মাস আগে ওই এলাকায় নদীর পাড় বাঁধাইয়ের নামে বালু উত্তোলন করা হয়। তবে পাড় বাঁধাইয়ের কাজের পাশাপাশি অন্য একটি ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে নদ থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং বালু উত্তোলনের বৈধতা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী হওয়ায় শরিফুল ইসলাম প্রধানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না অনেকে। তাঁদের দাবি, প্রশাসনের নিষেধের পরও বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে নদ রক্ষায় প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ জনসমক্ষে স্পষ্ট করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে, নদ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় ভাঙন, আশপাশের জমির ক্ষতি এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নদ ও আশপাশের এলাকার মানুষকে ভবিষ্যতে ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।
‘বিষয়টি আমি দেখতেছি, কী করা যায়’—ইউএনও
আত্রাই নদে বালু উত্তোলনের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান সরকার বলেন, “বিষয়টি আমি দেখতেছি, কী করা যায়।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি একই বক্তব্য দেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বালু উত্তোলন বন্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী এবং প্রশাসনের নিষেধের পরও পুনরায় কার্যক্রম শুরু হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম প্রধানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, আত্রাই নদ থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
এখন প্রশ্ন—প্রশাসনের নিষেধের পরও যদি আত্রাই নদে বালু উত্তোলনের অভিযোগ অব্যাহত থাকে, তাহলে তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়? নদ রক্ষায় শুধু নিষেধ নয়, বাস্তবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার স্পষ্ট জবাব চান স্থানীয় বাসিন্দারা। আত্রাই নদ রক্ষা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে উপজেলা প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।