September 13, 2026, 4:38 pm
শিরোনাম :
ফারইস্ট ইসলামী লাইফের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও স্ত্রীর ৫৭ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা ঢাকা দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরে আসিফ মাহমুদ বিআরটিসির চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপো: অভিযোগের স্তরে স্তরে অনিয়মের প্রশ্ন বিএনপি পরিবারের ব্যবসা-বাণিজ্যে হামলা-হয়রানির অভিযোগ ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার দুই বছরেও চালু হয়নি ১৫ দিনের মধ্যে সুপেয় পানি সরবরাহের দাবি কুমিল্লায় ছিনতাই ও মাদক সেবনের অভিযোগে দেশীয় অস্ত্রসহ ১৯ জন গ্রেপ্তার পটুয়াখালীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান মুগদা ফাঁড়িতে অভিযোগের ছায়া ‎চৌদ্দগ্রামে শহীদ হাজী সুরুজ মিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণে, মোহাম্মদ তাহের। মুগদা মেডিকেলের ওয়ার্ড থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার, ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেকে প্রেরণ

ফারইস্ট ইসলামী লাইফের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও স্ত্রীর ৫৭ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে সাড়ে ৫৭ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে বাড়ি, ফ্ল্যাট, আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্লট এবং বিভিন্ন এলাকায় জমি।

 

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ক্রোক করা সম্পদ বিক্রি, হস্তান্তর বা বিনিময় না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রারদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

গ্রাহকদের সঞ্চয়ের অর্থ বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর করে আত্মসাৎ এবং প্রতিষ্ঠানের নামে অতিরিক্ত দামে জমি কেনার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলার তদন্তে এসব সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্পদ হস্তান্তর বা অন্যত্র সরিয়ে ফেলার আশঙ্কায় সেগুলো ক্রোকের আবেদন করে সংস্থাটি।

 

দুদক সূত্র জানায়, নজরুল ইসলামের নামে ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুন্সিগঞ্জ, পটুয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ২০টি দলিলে থাকা স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের সরকারি দলিলমূল্য ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা।

 

এর মধ্যে রাজধানীর গুলশান-বারিধারা এলাকায় ৮ কাঠা বা ১৩ দশমিক ২২২ শতাংশ জমির ওপর বাড়ি ও জমি রয়েছে, যার দলিলমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। উত্তরা ও যাত্রাবাড়ীসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জমি ও প্লটের পাশাপাশি ময়মনসিংহের ভালুকার হবিরবাড়ী মৌজা এবং মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে জমি ও পুকুর রয়েছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটায় রয়েছে প্রায় ৬ দশমিক ১৬ একর জমি। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, বন্দর ও সদর এলাকায়ও একাধিক আবাসিক প্লট ও জমির তথ্য পেয়েছে দুদক।

 

অন্যদিকে নজরুল ইসলামের স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় থাকা স্থাবর সম্পদের সরকারি দলিলমূল্য ১৯ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। তার নামে মোট ২২টি দলিলের তথ্য পাওয়া গেছে।

 

তাসলিমার সম্পদের মধ্যে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পাইকপাড়া ও সলিমাবাদ এলাকায় প্রায় শতাধিক শতাংশ নাল জমি, রাজধানীর গুলশান আবাসিক এলাকায় বাড়ি এবং প্রায় ৩ হাজার বর্গফুটের একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া খিলক্ষেত, ক্যান্টনমেন্ট, বাড্ডা ও সূত্রাপুর এলাকায়ও জমি, প্লট ও ভবনের তথ্য রয়েছে।

 

দুদকের নথি অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর নামে থাকা এসব স্থাবর সম্পদের সরকারি দলিলমূল্য ৫৭ কোটি ৬১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। তবে এসব সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য সরকারি দলিলমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান দুদক বিধিমালা, ২০০৭-এর সংশোধিত ২০১৯ সালের বিধিমালার ১৮ বিধি অনুযায়ী সম্পদ ক্রোকের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, এসব সম্পদ ক্রোক করা না হলে সংশ্লিষ্টরা তা হস্তান্তর বা অন্যত্র সরিয়ে ফেলতে পারেন। আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে সম্পদগুলো ক্রোকের আদেশ দেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদের খোঁজ

বাংলাদেশে থাকা সম্পদের পাশাপাশি নজরুল ইসলামের বিদেশে পাচার করা অর্থ ও সম্পদের বিষয়েও অনুসন্ধান করছে দুদক। সংস্থাটির অনুসন্ধানে ২০১৫ সালে ৫ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার-বাংলাদেশি মুদ্রায় তিন কোটি টাকার বেশি—যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করে ওয়েলিংটনে একটি বাড়ি কেনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।

 

একাধিক মামলা, তদন্ত চলমান

গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পদ কেনাকাটায় অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে নজরুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা), ঢাকা-১ বিভিন্ন সময়ে সাতটি মামলা করেছে। এর মধ্যে ২০২২ সালের ৮ মার্চের ১ ও ২ নম্বর মামলা, একই বছরের ৮ মার্চের ১৮ নম্বর মামলা, ১২ আগস্টের ৪ নম্বর মামলা, ২০২৩ সালের ৭ এপ্রিল ও ৯ মে করা ৪ নম্বর মামলা এবং ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই করা ৩৫ নম্বর মামলা রয়েছে।

 

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকা-১ কার্যালয়ের মামলা নম্বর ৩৫-এ নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের অনুমতিতে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই জিজ্ঞাসাবাদে তার নামে থাকা বিভিন্ন স্থাবর সম্পদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে দুদক।

 

দুদক সূত্রের দাবি, এসব মামলায় আত্মসাতের অর্থের পরিমাণ হাজার কোটি টাকার বেশি। মামলাগুলোর তদন্ত চলমান। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি মামলা করার প্রক্রিয়াও চলছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।



ফেসবুকে আমরা