September 13, 2026, 2:58 pm
শিরোনাম :
বিআরটিসির চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপো: অভিযোগের স্তরে স্তরে অনিয়মের প্রশ্ন বিএনপি পরিবারের ব্যবসা-বাণিজ্যে হামলা-হয়রানির অভিযোগ ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার দুই বছরেও চালু হয়নি ১৫ দিনের মধ্যে সুপেয় পানি সরবরাহের দাবি কুমিল্লায় ছিনতাই ও মাদক সেবনের অভিযোগে দেশীয় অস্ত্রসহ ১৯ জন গ্রেপ্তার পটুয়াখালীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান মুগদা ফাঁড়িতে অভিযোগের ছায়া ‎চৌদ্দগ্রামে শহীদ হাজী সুরুজ মিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণে, মোহাম্মদ তাহের। মুগদা মেডিকেলের ওয়ার্ড থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার, ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেকে প্রেরণ পে-স্কেলের গেজেট দ্রুত প্রকাশের দাবি পটুয়াখালীতে সমাবেশ ও ৫১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা খানসামায় দুই দিনের অভিযানে ১৫,০০ অধিক বস্তা সার জব্দ

বিআরটিসির চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপো: অভিযোগের স্তরে স্তরে অনিয়মের প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

অভিযুক্তদের বক্তব্য মেলেনি, নথি ও লেনদেন যাচাইয়ের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সেটি শুধু কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়ে থাকে না—প্রশ্ন ওঠে পুরো ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি কাঠামো নিয়ে। বিআরটিসির চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোও এখন সেই প্রশ্নের মুখোমুখি। রাজনৈতিক প্রভাব, হিসাব-নিকাশে অসঙ্গতি এবং কথিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়মের সুযোগ তৈরির অভিযোগ সামনে আসায় ডিপোটির আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে মো. মফিজ উদ্দিন ও মো. কামরুজ্জামানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তারা ফোন রিসিভ না করায় প্রতিবেদনের সময়সীমার মধ্যে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

 

অভিযোগকারীদের দাবি, ডিপোর বিভিন্ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে আর্থিক হিসাব, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

 

তবে অভিযোগের সত্যতা এখনো কোনো চূড়ান্ত তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। ফলে অভিযোগে উল্লিখিত প্রতিটি বিষয় নথিপত্র, হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করাই হবে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মূল পথ।

 

এদিকে বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার বক্তব্য এবং দুদকে দাখিল করা অভিযোগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে টিআইবিসহ বিশেষজ্ঞ মহলের বিভিন্ন পর্যায়ের সতর্কতার বিষয় সামনে এসেছে।

 

এখন মূল প্রশ্ন—অভিযোগে উল্লিখিত আর্থিক লেনদেন ও হিসাবের সঙ্গে বাস্তব তথ্যের কতটা মিল রয়েছে? সংশ্লিষ্ট কাজ ও লেনদেনে যথাযথ অনুমোদন ছিল কি না? রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারে বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছে কি না? আর কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে এর দায় নির্ধারণের প্রক্রিয়াই বা কতটা কার্যকর?

 

এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট হিসাবপত্র, ভাউচার, অনুমোদন নথি, সম্পদ ব্যবস্থাপনার রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্যও যাচাইয়ের আওতায় আনা জরুরি।

 

অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তি—দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছ তদন্ত অপরিহার্য। কারণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ ও সম্পদের প্রশ্নে অনুমান নয়, প্রয়োজন নথি ও প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত।

 

বিআরটিসির চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপো নিয়ে ওঠা অভিযোগ তাই এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়েছে—অভিযোগের আড়ালে প্রকৃত অনিয়ম আছে, নাকি বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, তা নির্ধারণ করবে নিরপেক্ষ তদন্তই।



ফেসবুকে আমরা