
রাজনৈতিক আওয়ামী লীগের পরিচয় বদলে হয়ে গেছেন বিএনপির নেতা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগ, নিরাপত্তা চায় তানভীরুল পরিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজধানীর পূর্ব রামপুরায় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ তানভীরুল হকের পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘রাইসা এন্টারপ্রাইজ’-এ হামলা, হয়রানি ও বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে থাকার পরও তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নতুন করে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
পরিবারটির অভিযোগ, অতীতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে যারা এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন, তাদের কেউ কেউ বর্তমানে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে ফের ব্যবসা ও পারিবারিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
মোহাম্মদ তানভীরুল হকের বড় ভাই মাহাবুবুল হক লিটন বলেন, “আমরা বিএনপি করার কারণে ১৭ বছর আমাদের ওপরে নির্যাতন লুটপাট ভাঙচুর ও মামলা দিয়ে হয়রানি করিয়েছেন এই লোকগুলো বিএনপি ক্ষমতায় এলো আমরা মুক্তি পাইনি এই চাঁদাবাজের হাত থেকে পরিবারের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে রাজপথে ছিলাম। ওই সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পরও আগের কিছু ব্যক্তি আওয়ামী লীগ দোসর ছিলেন নতুন পরিচয়ে বিএনপির প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এতে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ফের হামলা, ভয়ভীতি কিংবা চাঁদাবাজির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মাহাবুবুল হক লিটন আরও বলেন, “শুধু রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করলেই অতীতের কর্মকাণ্ডের দায় শেষ হয়ে যায় না। কেউ যদি নতুন কোনো পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি, লুটপাট কিংবা হামলায় জড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।”
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, মোহাম্মদ তানভীরুল হক বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। তার অনুপস্থিতিতে পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রাইসা এন্টারপ্রাইজের কার্যক্রম দেখাশোনা করছেন তার বড় ভাই মাহাবুবুল হক লিটন।
তিনি বলেন, “আমরা কারও সঙ্গে অন্যায় করতে চাই না। ব্যবসা পরিচালনা করে শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে চাই। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে যদি আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে হামলা, ভয়ভীতি বা চাঁদাবাজির চেষ্টা করা হয়, তাহলে আমরা আইনগতভাবে এর মোকাবিলা করব।”
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।