
স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে নেমেছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ৫ জুলাই জারি করা এক আদেশে অভিযোগগুলো তদন্ত করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে জারি করা ওই নির্দেশনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্ত সম্পন্ন করে সচিবের কাছে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনায় কাজী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, কমিশন বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ পদোন্নতি, অনিয়মের মাধ্যমে তৃতীয় গ্রেডের সুবিধা গ্রহণ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন সময় প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের আমলে ডিএসসিসিতে একটি প্রভাবশালী প্রকৌশলী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে, যেখানে কাজী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, টেন্ডার, বিল অনুমোদন ও প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ অপচয় ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল ও সারুলিয়া এলাকার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রকল্পের কাজ নিম্নমানের হওয়া, ভুয়া বিল এবং আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে শত কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ডিএসসিসির একটি প্রকৌশলীর পদে একই সময়ে দুই কর্মকর্তা—কাজী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন ও মো. আসাদুজ্জামান—বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি প্রশাসনিক ও আর্থিক শৃঙ্খলার প্রশ্ন তুলেছে এবং এ বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠেছে।
সুশাসন বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনি অধিকারও সমানভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কাজী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।