October 29, 2026, 3:55 pm
শিরোনাম :
কালীগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একজনের এক বছরের কারাদণ্ড পূবাইলে অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেল নারীর আদর্শ ওয়ার্ড ও মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে  চান কাউন্সিলর প্রার্থী মো: ইউসুফ মিয়া রূপগঞ্জে ভাঙ্গারির গোডাউনে আগুন, দগ্ধ ১ কালীগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতা নিহতের ঘটনায় ঘাতক পিকআপ উদ্ধার, হেলপার গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রে দীপু ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা দিবে প্রবাসী রূপগঞ্জবাসী মধ্য নন্দীপাড়ায় মাদক, জুয়া ও সন্ত্রাসবিরোধী রাতারাতি বিশেষ অভিযান আত্রাই নদে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ বিএনপি নেতা শরিফুলের বিরুদ্ধে, নীরব কেন প্রশাসন? অপরাধ ঢাকতে সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি: ফেসবুকে জেসিকার ‘আত্মহত্যার হুমকি’ রেজিস্টারে মিলছে না হিসাব, তাহলে কৃষকের সার যাচ্ছে কোথায়?

সংবাদ পাঠিকা মরিয়ম আক্তার (ইকো)-এর বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আদালতের দ্বারস্থ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী; সাইবার মামলাসহ একাধিক আইনি পদক্ষেপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সংবাদ পাঠিকা মরিয়ম আক্তার (ইকো)-এর বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ, ধার নেওয়া অর্থ ফেরত না দেওয়া, অতিরিক্ত অর্থ দাবি, প্রাণনাশের হুমকি এবং আবেদনকারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ এনে চট্টগ্রামের আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ইঞ্জিনিয়ার শেখ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক।

আদালতে দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে মরিয়ম আক্তার (ইকো)-এর সঙ্গে আবেদনকারীর পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত বিভিন্ন সময় পারিবারিক সংকট, আর্থিক সমস্যা, ব্যক্তিগত প্রয়োজন এবং জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে একাধিক ধাপে আবেদনকারীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ধার নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিবারই অল্প সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়নি বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

 

আবেদনকারী আরও অভিযোগ করেন, পাওনা অর্থ ফেরত চাইলে মরিয়ম আক্তার (ইকো) লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে আবেদনকারী, তাঁর স্ত্রী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কন্যার ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া আবেদনকারীর কাছ থেকে আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও আদালতে দাখিল করা নথিতে বলা হয়েছে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে আবেদনকারী আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তিনি ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৪ ধারায় একটি সাধারণ ডায়েরির আবেদন করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালে পৃথক একটি ফৌজদারি মামলা দায়েরের পাশাপাশি ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭(সি) ধারায় শান্তি রক্ষার আবেদনও করেন। আবেদনকারীর দাবি, বিষয়গুলো বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

মামলা দায়েরের পরও হুমকি ও হয়রানি অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত তাঁর পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে আবেদনকারী, তাঁর স্ত্রী, কন্যা এবং মামলার সাক্ষীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের, বিভিন্নভাবে হয়রানি এবং গণমাধ্যমে মানহানিকর প্রচারণা চালানোর হুমকি দিয়ে আসছেন। এতে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতের কাছে দাখিল করা আবেদনে আবেদনকারী অভিযোগ গুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর নিজের, স্ত্রী, কন্যা এবং মামলার সাক্ষীদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালতের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, এ ঘটনায় সাইবার মামলা নং–২১১/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে, যা সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২৫ ধারার আওতাভুক্ত বলে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে মামলাগুলোর তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আইনজীবীদের মতে, আদালতে উত্থাপিত যেকোনো অভিযোগ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই যাচাই করা হয়। সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনার পর আদালত আইন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে বর্ণিত সব তথ্য আদালতে দাখিল করা আবেদন, মামলা ও সংশ্লিষ্ট নথির ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। অভিযোগগুলো বর্তমানে বিচারাধীন এবং এ বিষয়ে আদালতের কোনো চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি।



ফেসবুকে আমরা