October 29, 2026, 1:52 am
শিরোনাম :
অপরাধ ঢাকতে সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি: ফেসবুকে জেসিকার ‘আত্মহত্যার হুমকি’ রেজিস্টারে মিলছে না হিসাব, তাহলে কৃষকের সার যাচ্ছে কোথায়? ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কাল ভোট, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে নির্বাচনি সরঞ্জাম ‎ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অংশে ডেমরা সেতু সংস্কার কাজের জন্য   ৩ কিলোমিটার জুড়ে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা রূপগঞ্জে লক্ষীপূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে হাজী মাসুমের শুভেচ্ছা বিনিময় পটুয়াখালীতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সারারাত ধরে পরিষ্কার হলো পরিষ্কার হলো ঢাকা- সিলেট মহাসড়ক কালীগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় মালামাল উদ্ধারসহ -২ ডাকাত গ্রেফতার চৌদ্দগ্রামে আ’লীগের তান্ডবের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল পায়রা নদীতে যৌথ অভিযানে সাড়ে ৭ লাখ টাকার জাল জব্দ

গণপূর্ত অধিদপ্তর-এ অনিয়মের অভিযোগ: শেরেবাংলানগর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেনকে ঘিরে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত অধিদপ্তর-এর শেরেবাংলানগর গণপূর্ত বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেনকে ঘিরে অনিয়ম ও স্বচ্ছতা প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় প্রশাসনিক মহলে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ পদে সাধারণত তিন বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন না করার বিধান থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী প্রায় পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে একই বিভাগে বহাল রয়েছেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে—দীর্ঘ সময় একই পদে দায়িত্ব পালনের পেছনে কোনো বিশেষ প্রভাব বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কাজ করেছে কি না।

অভিযোগ রয়েছে, শেরেবাংলানগর বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে ঠিকাদারি কাজ বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়নি। বিশেষ করে কিছু প্রকল্পে নিকটাত্মীয়দের মাধ্যমে কাজ করানো এবং বিল পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কয়েকটি প্রকল্পে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও কাগজে-কলমে সম্পূর্ণ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ও আশপাশের প্রকল্পগুলো উচ্চমূল্য ও সংবেদনশীল হওয়ায় এসব কাজ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ নজরদারি প্রত্যাশিত। তবে বাস্তবে সেই তদারকি কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তার দায়িত্বকালীন সময়ে কয়েক শ’ কোটি টাকার একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যার মধ্যে ছিল সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন, যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক কাজ।

এদিকে, দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ইতিপূর্বে দুর্নীতি দমন কমিশন-এ (দুদক) বিভিন্ন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধেও কিছু অভিযোগ দুদকের নজরে এসেছে বলে গণমাধ্যমে উল্লেখ রয়েছে। তবে দুদকের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। অনুসন্ধান শেষে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমনটাই বিধান।

অতীতে একই বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় বদলি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে বর্তমান অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় অর্থে পরিচালিত প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এসব প্রকল্প সরাসরি জনগণের করের টাকায় বাস্তবায়িত হয়।

তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা সমীচীন নয়। তারা মনে করেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটন হওয়া উচিত।

সচেতন মহলের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলো দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করা হবে। এতে যেমন অভিযুক্ত ব্যক্তি ন্যায়বিচার পাবেন, তেমনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থাও বজায় থাকবে।



ফেসবুকে আমরা