
অপূর্ব সরকার,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালী–কুয়াকাটা মহাসড়কের ধলুগাজীর মোড়ে যাত্রীবাহী বাস ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ জন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। শনিবার রাত সোয়া ১১টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বসাকবাজার সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন—ইজিবাইকচালক কাইয়ুম উদ্দিন (৫০), যাত্রী শিল্পী রানী (৪০), তিথী রানী (২৩) এবং চালকের শ্যালক মো. জাহাঙ্গীর। তাঁদের সবার বাড়ি গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের বাউরিয়া-বৌবাজার এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বরগুনার তালতলী থেকে ঢাকাগামী ‘ইমরান পরিবহন’-এর একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি যানবাহনই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি মাছের ঘেরে পড়ে যায় এবং ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
ঘটনাস্থলেই ইজিবাইকচালক কাইয়ুম, শিল্পী রানী ও তিথী রানীর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. রেজোয়ান জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালান। এ সময় একজনের বিচ্ছিন্ন পা পানিতে তলিয়ে গেলে ডুবুরি দল অভিযান চালিয়ে তা উদ্ধার করে।
পটুয়াখালী সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারে কাজ চলছে। দুর্ঘটনার পরপরই বাসচালক পালিয়ে গেছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) মশিউর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে শিল্পী রানী দুর্ঘটনার শিকার হন। চালক কাইয়ুমের স্ত্রী মরিয়ম বেগম হাসপাতালে এসে স্বামী ও ভাই জাহাঙ্গীরের লাশ শনাক্ত করেন।

দুর্ঘটনার ফলে মহাসড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে উদ্ধারকাজ শেষে মহাসড়কে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।