
বিল্লাল হোসেন:
রাজধানীর মুগদা থানার ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের বালুর মাঠ সলঘর এলাকায় ঋণের টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরে আমজাদ আলী নামে এক ব্যক্তিকে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ উঠেছে আবুল মিয়া ও তার স্ত্রী রেহেনা বেগমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ২২ তারিখ রাত ১১টার দিকে আমজাদ আলীকে পাওনা টাকার কথা বলে আবুল মিয়ার বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে রাত ৩টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আমজাদ আলীর ভাষ্য, প্রায় ছয় বছর আগে তিনি ও তার স্ত্রী আবুল মিয়া ও রেহেনা বেগমের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা লাভ এবং ২ হাজার ৫০০ টাকা আসলসহ মোট ৫ হাজার টাকা করে পরিশোধ করেছেন বলে দাবি তার। তবে বর্তমানে আবুল মিয়া ও তার স্ত্রী আরও প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে পূর্বে দেওয়া কিস্তির টাকার বিষয়টিও তারা অস্বীকার করছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীর।
আমজাদ আরও অভিযোগ করেন, এলাকার অন্য একজনের কাছে টাকা পাওনা থাকায় তাকে ওই ব্যক্তিকে চেনেন—এমন অভিযোগ তুলে সেই টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে রাতভর আটকে রাখা হয়।
ঘটনার সময় আমজাদ আলীর পরিবারের ১৩ বছর বয়সী এক ছেলে স্থানীয় এক সাংবাদিককে বিষয়টি জানালে সাংবাদিক মুগদা থানায় খবর দেন। পরে মুগদা থানার এসআই ইউসুফ শিকদার ঘটনাস্থলে গিয়ে আমজাদ আলীকে উদ্ধার করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, উদ্ধারের সময় অভিযুক্ত আবুল মিয়া ও তার স্ত্রী পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরে কোনো মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা না নিয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয় সাংবাদিকের পক্ষ থেকেও পুলিশ কর্মকর্তাকে একজন ব্যক্তিকে প্রমাণ ছাড়া কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে মারধরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের প্রশ্ন, একজন মানুষকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ পাওয়ার পরও কেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো না? তাদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং আমজাদ আলীর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল মিয়া ও রেহেনা বেগমের বক্তব্য এবং মুগদা থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।