
পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, কাজ না করেই বিল উত্তোলন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ অনুসন্ধানে একাধিক প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন হলেও বাস্তবে কাজ না হওয়া এবং নামমাত্র কাজ দেখিয়ে পুরো বিল তুলে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি প্রকল্প থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন আদায় করা হয়। কমিশন না দিলে বিল আটকে রাখা হয়। সম্প্রতি এক ইউপি সদস্যের স্বামীর কাছে দুটি প্রকল্পের কমিশন বাবদ ৪৫ হাজার টাকা দাবি করার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, লেবুখালী ইউনিয়নের রাস্তা সংস্কার, উপজেলা পরিষদ চত্বরে মাটি ভরাট, ইউএনওর বাসভবনের ফুল বাগান উন্নয়ন, সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং কার্তিকপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ ভরাটসহ একাধিক প্রকল্পে বরাদ্দের বিপরীতে বাস্তবে কাজের মিল পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক প্রকল্পে অল্প কাজ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পিআইও মোহাম্মদ আলীকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি সরাসরি দেখা করতে বলেন এবং পরে ফোন কেটে দেন। জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুদক পটুয়াখালীর সহকারী কমিশনার তাপস বিশ্বাস জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, অভিযোগের বিষয়ে কাজ চলছে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কাজী মো. বদরুউজ্জামান জানান, তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।