
অপূর্ব সরকার,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
পটুয়াখালী শহরের ব্যস্ততম লতিফ স্কুল রোডে ফিটনেস ও নিবন্ধনবিহীন শ্যালো ইঞ্জিনচালিত একটি পণ্যবাহী টমটমের চাপায় হোসনেয়ারা বেগম (৫০) নামে এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
গত বুধবার বিকেলে পটুয়াখালী শহরের গুরুত্বপূর্ণ লতিফ স্কুল রোডে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় নিহত হোসনেয়ারা বেগমের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে একটি বাসা দেখতে যাচ্ছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা সিমেন্টবোঝাই একটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত টমটম নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিয়ে ঘাতক টমটমটি আটক করেন এবং চালককে পুলিশে সোপর্দ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। একই সঙ্গে ঘাতক যানটি জব্দ করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পটুয়াখালী শহরে স্থানীয়ভাবে তৈরি ডিজেলচালিত শ্যালো ইঞ্জিনভিত্তিক টমটমগুলো দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ বা অনুমোদন ছাড়াই অবাধে চলাচল করছে। অধিকাংশ যানবাহনে নেই কার্যকর ব্রেকিং ব্যবস্থা, সড়ক নিরাপত্তার ন্যূনতম মান কিংবা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম। ফলে এসব যান প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠছে
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কর্তৃক নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো মোটরযান সড়কে চলাচল করতে পারে না। আইন অনুযায়ী নিবন্ধনবিহীন বা ফিটনেসবিহীন যানবাহন পরিচালনা দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এ ধরনের যান জব্দসহ চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
এছাড়া মোটরযান অধ্যাদেশ ও সড়ক পরিবহন বিধিমালা অনুযায়ী জনসাধারণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্যকর নজরদারির অভাবে এসব অবৈধ টমটম শহরের প্রধান সড়ক, অলিগলি এবং বাজার এলাকায় নির্বিঘ্নে চলাচল করছে।
শুধু দুর্ঘটনাই নয়, এসব শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যান থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া ও অতিরিক্ত শব্দদূষণ শহরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। পরিবেশবিদদের মতে, নিম্নমানের ডিজেল ইঞ্জিন থেকে নির্গত ধোঁয়ায় ক্ষতিকর বস্তুকণা (Particulate Matter) ও বিষাক্ত গ্যাস থাকে, যা শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।
এ ঘটনার পর পটুয়াখালীবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখের সামনেই অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে একের পর এক দুর্ঘটনায় নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, কেবল দুর্ঘটনার পর মামলা দায়ের বা চালক আটক করলেই হবে না, নিবন্ধন ও ফিটনেসবিহীন সব ধরনের শ্যালো ইঞ্জিনচালিত অবৈধ টমটমের বিরুদ্ধে বিআরটিএ, ট্রাফিক পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে শহরের সড়কে নিয়মিত নজরদারি, আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতেও এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকবে।