September 20, 2026, 2:34 pm
শিরোনাম :
বীরচন্দ্রনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন, নারী উদ্যোক্তা কাজী আফরোজা ইসরাত নোয়াখালী ডিবির অভিযানে ৪০ পিস ইয়াবাসহ ৩ আসামি গ্রেফতার ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিংয়ে শতভাগ বিদেশি মালিকানার প্রস্তাব বাফার আপত্তি, দেশীয় উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা ও বৈদেশিক মুদ্রা ধরে রাখার নীতি চায় সংগঠনটি নবাগত শিক্ষার্থীদের পাশে নাসিরনগর সরকারি কলেজ ছাত্রদল। থানার সামনে/হেফাজতে থাকা গাড়িতে আগুন, চাঞ্চল্য! আ.লীগ নেতার বাড়িতে ভূরিভোজ, সেনবাগের ওসি প্রত্যাহার সামিউল ইসলাম চৌধুরী ইউপি চেয়ারম্যান হলে উন্মোচিত হতে পারে উন্নয়নের নব দিগন্ত। পটুয়াখালী কুয়াকাটা মহাসড়কে বাস ইজি বাইক মুখোমুখি সংঘর্ষ; নিহত ৪  পটুয়াখালীতে গাজী মুনিবুর রহমান নার্সিং কলেজের নির্মানাধীন ভবনে দুর্ঘটনা একজন নির্মাণ শ্রমিক নিহত, আহত-৩  বাউফলে প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিংয়ে শতভাগ বিদেশি মালিকানার প্রস্তাব বাফার আপত্তি, দেশীয় উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা ও বৈদেশিক মুদ্রা ধরে রাখার নীতি চায় সংগঠনটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক, 

 

দেশের ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং খাতে শতভাগ বিদেশি মালিকানার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফা)। সংগঠনটির দাবি, প্রস্তাবিত লাইসেন্সিং বিধিমালায় এ সুযোগ দেওয়া হলে দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বড় ধরনের প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফ্রেইট ব্যবসা থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার একটি বড় অংশ বিদেশে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে তারা।

রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব কথা বলেন বাফার নেতারা। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত পরিবর্তন থেকে সরকার সরে না এলে আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধ রেখে কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

এর আগে সকালে প্রস্তাবিত খসড়া বিধিমালা নিয়ে এনবিআরের সঙ্গে বৈঠক করেন বাফার প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার ও উদ্যোক্তারা।

 

সমাবেশে এমজিএইচ গ্রুপের শিপিং ও লজিস্টিকস বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ইকবাল আলী শিমুল বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর আন্তর্জাতিক ফ্রেইট বাবদ প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে। তাঁর দাবি, বর্তমানে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এ অর্থের মাত্র ৮ থেকে ১০ শতাংশ দেশে রাখা সম্ভব হচ্ছে। নীতিগত সহায়তা পেলে তা প্রায় ২০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

 

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এতে বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে শতভাগ বিদেশি মালিকানার সুযোগ দেওয়া হলে আন্তর্জাতিক চালান থেকে অর্জিত আয় ও মুনাফার আরও বেশি অংশ বিদেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বাফার নেতারা বলেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়লে ফ্রেইট চার্জ, লভ্যাংশ প্রত্যাবাসন, হেড অফিস ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার আন্তঃলেনদেনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে। তবে এসব আশঙ্কার বাস্তব প্রভাব নির্ধারণে সরকারি পর্যায়ে বিস্তারিত অর্থনৈতিক ও নিয়ন্ত্রক প্রভাব বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত দেন সংশ্লিষ্টরা।

 

আরেকটি বিষয়ে আপত্তি তুলে বাফা বলেছে, আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং লাইসেন্স পেলে একই ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর হাতে শিপিং ও ফরওয়ার্ডিং—দুই পর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

 

সৈয়দ ইকবাল আলী শিমুলের দাবি, এতে ফ্রেইট রেট ও কনটেইনার চার্জ নির্ধারণে স্থানীয় আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের দরকষাকষির সক্ষমতা কমতে পারে। এর সম্ভাব্য প্রভাব তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

 

সমাবেশে বাফার সাবেক সভাপতি কবির আহমেদ দাবি করেন, দেশে সক্রিয় প্রায় ১ হাজার ৩০০ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শতভাগ বিদেশি ও যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানসহ ২০ থেকে ২৫টি কোম্পানির হাতে বাজারের প্রায় ৯৫ শতাংশ ব্যবসা রয়েছে। তাঁর দাবি, বিপরীতে ১ হাজার ২৫০টির বেশি দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানকে বাকি ব্যবসা নিয়ে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে।

বাফার নেতারা বলেন, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং মূলত নেটওয়ার্ক ও সেবানির্ভর ব্যবসা। তাই সীমিত মূলধনের দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে একই কাঠামোয় শতভাগ মালিকানায় ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হলে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

তাদের ভাষ্য, এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। ফলে নীতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্থানীয় এসএমই উদ্যোক্তা, আমদানিকারক-রপ্তানিকারক এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আইনগত দিক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বাফা। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কার্যকর বিধিমালায় যৌথ উদ্যোগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ দেশীয় এবং সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ বিদেশি মালিকানার বিধান রয়েছে। এই কাঠামো পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আরও আলোচনা এবং নিয়ন্ত্রক প্রভাব বিশ্লেষণের দাবি জানিয়েছে তারা।

 

বাফার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ২০১৫ সালের আগে কার্যক্রম শুরু করা শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়নসংক্রান্ত একটি বিষয় উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ অবস্থায় মামলাটির নিষ্পত্তির আগে সংশ্লিষ্ট বিধি পরিবর্তন না করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

 

বাফার চার দাবি

 

সমাবেশ থেকে বাফা প্রস্তাবিত বিধিমালায় কয়েকটি পরিবর্তনের দাবি জানায়। এর মধ্যে রয়েছে—

 

– শতভাগ বিদেশি মালিকানার সুযোগ না দিয়ে বিদ্যমান ৬০:৪০ মালিকানা কাঠামো বহাল রাখা;

– পরিচালনা পর্ষদের ভোটাধিকার, শেয়ার ও লভ্যাংশ বণ্টনে দেশীয় উদ্যোক্তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা;

– উচ্চ আদালতে বিচারাধীন মামলার নিষ্পত্তির আগে সংশ্লিষ্ট বিধি পরিবর্তন না করা;

– বিদেশি অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলে তা নির্দিষ্ট মূলধনি ও যৌথ উদ্যোগের শর্তের আওতায় রাখা।

 

সমাবেশের শেষ দিকে বাফার সভাপতি আরিফুল হাসান বলেন, প্রস্তাবটি প্রত্যাহার না হলে সংগঠনটি আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে পারে।

 

তিনি বলেন, “জাতীয় স্বার্থ ও দেশীয় অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিলম্বে এই প্রস্তাব প্রত্যাহার করা না হলে আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করে হলেও এসএমই খাতের হাজার হাজার উদ্যোক্তাকে বাঁচাতে আমরা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হব।”

 

তবে প্রস্তাবিত বিধিমালার পক্ষে সরকারের যুক্তি, শতভাগ বিদেশি মালিকানার সুযোগ দেওয়ার সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধা, বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতার প্রভাব এবং বাফার দাবিগুলোর বিষয়ে এনবিআর বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হলে বিষয়টি আরও পূর্ণাঙ্গ হবে।



ফেসবুকে আমরা