October 29, 2026, 2:45 am
শিরোনাম :
অপরাধ ঢাকতে সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি: ফেসবুকে জেসিকার ‘আত্মহত্যার হুমকি’ রেজিস্টারে মিলছে না হিসাব, তাহলে কৃষকের সার যাচ্ছে কোথায়? ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কাল ভোট, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে নির্বাচনি সরঞ্জাম ‎ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অংশে ডেমরা সেতু সংস্কার কাজের জন্য   ৩ কিলোমিটার জুড়ে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা রূপগঞ্জে লক্ষীপূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে হাজী মাসুমের শুভেচ্ছা বিনিময় পটুয়াখালীতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সারারাত ধরে পরিষ্কার হলো পরিষ্কার হলো ঢাকা- সিলেট মহাসড়ক কালীগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় মালামাল উদ্ধারসহ -২ ডাকাত গ্রেফতার চৌদ্দগ্রামে আ’লীগের তান্ডবের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল পায়রা নদীতে যৌথ অভিযানে সাড়ে ৭ লাখ টাকার জাল জব্দ

১৪তম গ্রেডের চাকরি, এক দশকে শতকোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

“সাধারণ কর্মচারী” থেকে “অবৈধ সম্পদের পাহাড়”—ইউপি সচিব মীর আব্দুল বারেককে ঘিরে নানা প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি:

একসময় ১৪তম গ্রেডের ইউনিয়ন পরিষদের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। অথচ এক দশকের ব্যবধানে জীবনযাত্রায় এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। বহুতল ভবন, জমি, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাভার উপজেলার পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মীর আব্দুল বারেকের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, তার ঘোষিত ও বৈধ আয়ের সঙ্গে কথিত সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।

তেতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব এবং বর্তমানে পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত মীর আব্দুল বারেকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি অর্থের অপচয় বা আত্মসাতের অভিযোগ করে আসছেন স্থানীয় কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও সরকারি তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

এক দশকের দায়িত্ব, নানা অনিয়মের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, তেতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সরকারি বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিল-ভাউচার, ঠিকাদারি কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগকারীদের দাবি, দায়িত্বশীল পদে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি প্রভাব বিস্তার করেছেন এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। যদিও এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী, জমির দলিল এবং ব্যাংক লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনা প্রয়োজন।

সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তেতুলঝোড়া এলাকায় মীর আব্দুল বারেকের নামে একটি পাঁচতলা ভবন রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একই এলাকায় তার নামে-বেনামে প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতক জমি থাকার অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া রাজধানীর কল্যাণপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তার একাধিক ফ্ল্যাট বা বাড়ি রয়েছে বলেও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। এসব সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়মূল্য ও অর্থের উৎস কী—তা যাচাই করা হলে অভিযোগের বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

সাংগঠনিক পদ নিয়েও প্রশ্ন

ইউপি সচিবদের একটি সংগঠনের ঢাকা জেলার সভাপতির দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করেও তার প্রভাব বিস্তার নিয়ে আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সাংগঠনিক পরিচয় ও প্রশাসনিক পদমর্যাদাকে কাজে লাগিয়ে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—একজন ১৪তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীর বৈধ আয়, চাকরির মেয়াদ এবং পারিবারিক আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে কথিত বিপুল সম্পদের হিসাব কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?

তদন্তের দাবি

অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, মীর আব্দুল বারেকের নামে ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, জমি, ফ্ল্যাট, ভবন, ব্যাংক হিসাব এবং আয়কর নথি যাচাই করা হলে প্রকৃত সম্পদের চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

এ বিষয়ে মীর আব্দুল বারেকের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ইউপি কর্তৃপক্ষ, উপজেলা প্রশাসন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অবস্থান পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করে অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা প্রয়োজন।

[প্রতিবেদনটি অনুসন্ধানীভাবে প্রকাশের আগে জমি/ফ্ল্যাটের দলিল, সম্পদ বিবরণী, প্রকল্পের নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য দিয়ে অভিযোগগুলো যাচাই করা জরুরি।]



ফেসবুকে আমরা