October 29, 2026, 1:47 am
শিরোনাম :
অপরাধ ঢাকতে সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি: ফেসবুকে জেসিকার ‘আত্মহত্যার হুমকি’ রেজিস্টারে মিলছে না হিসাব, তাহলে কৃষকের সার যাচ্ছে কোথায়? ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কাল ভোট, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে নির্বাচনি সরঞ্জাম ‎ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অংশে ডেমরা সেতু সংস্কার কাজের জন্য   ৩ কিলোমিটার জুড়ে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা রূপগঞ্জে লক্ষীপূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে হাজী মাসুমের শুভেচ্ছা বিনিময় পটুয়াখালীতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সারারাত ধরে পরিষ্কার হলো পরিষ্কার হলো ঢাকা- সিলেট মহাসড়ক কালীগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় মালামাল উদ্ধারসহ -২ ডাকাত গ্রেফতার চৌদ্দগ্রামে আ’লীগের তান্ডবের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল পায়রা নদীতে যৌথ অভিযানে সাড়ে ৭ লাখ টাকার জাল জব্দ

১,৪৯২ কোটি টাকার প্রকল্পে মামুন বিশ্বাস জিওর আগেই পিডি নিয়োগ, ডিপিপি পুনর্গঠন নিয়েও প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

জিওর আগেই পিডি নিয়োগ, ডিপিপি পুনর্গঠন নিয়েও প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকার ‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) করা হয়েছে ঠাকুরগাঁও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুন বিশ্বাসকে। তবে তাঁর নিয়োগের সময়ক্রম এবং প্রকল্প প্রণয়নে সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২২ জুলাই একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। অনুমোদনের সময়ই ডিপিপি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরামর্শক, গাড়ি ভাড়া ও রক্ষণাবেক্ষণসহ কয়েকটি ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার পাশাপাশি নিজস্ব জনবলের সর্বোচ্চ ব্যবহারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

এরপর ৪ আগস্ট পরিকল্পনা বিভাগ স্থানীয় সরকার বিভাগকে একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিপিপি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেয়। অথচ এর মাত্র আট দিনের মাথায় ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় পিডি নিয়োগের সভা। পরদিন ১৩ আগস্ট মামুন বিশ্বাসকে পূর্ণকালীন পিডি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে—২৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদনের সরকারি আদেশ (জিও) জারি হয়নি।

নিয়মের আগেই নিয়োগ?

পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক সচিব মো. মামুন আল রশিদ বলেন, একনেকের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক আদেশের পরই পিডি নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা। প্রশাসনিক আদেশ জারির আগে পিডি নিয়োগের সুযোগ নেই বলেও তিনি জানান।

পরিকল্পনা কমিশনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রচলিত পরিপত্র অনুযায়ী জিও জারির পর এক মাসের মধ্যে পিডি নিয়োগের নির্দেশনা রয়েছে। ফলে জিও জারির আগে পিডি নিয়োগ হয়ে থাকলে তা প্রচলিত নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সে প্রশ্ন উঠতে পারে।

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এসএম শাকিল আখতারও জানিয়েছেন, বর্তমান পরিপত্র অনুযায়ী জিও জারির আগে পিডি নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তবে বাস্তবায়নে দেরি হওয়ায় পরিপত্র সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডিপিপি তৈরিতে যিনি, পিডিও তিনিই?

মামুন বিশ্বাসের নিয়োগ নিয়ে দ্বিতীয় প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বৃহত্তর দিনাজপুর প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি ও ডিপিপি সাজানোর সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। পরে তাকেই দেওয়া হয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব।

এ অভিযোগ সত্য হলে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দুই পর্যায়ে একই কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন উঠতে পারে।

বিশেষ করে একনেকের অনুমোদনের পরও যখন ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ চলছিল, তখন পিডি নিয়োগের সিদ্ধান্ত কেন এত দ্রুত নেওয়া হলো—তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

পুরোনো অভিযোগের ভার

মামুন বিশ্বাসের নতুন নিয়োগের সঙ্গে সামনে এসেছে তাঁর বিরুদ্ধে আগে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগও। ঠাকুরগাঁও এলজিইডিতে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি গাড়ির অপব্যবহার, ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ এবং নামে-বেনামে সম্পদ গড়ার অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছিল।

একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, কাজ শেষ হওয়ার পর ফাইলে স্বাক্ষর করাতে তাঁদের কাছ থেকে টাকা দাবি করা হতো। ঘুষ না দিলে ফাইল আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার এবং অন্য সরকারি দপ্তরের গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁর আয় ও কথিত অতিরিক্ত ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

১,৪৯২ কোটি টাকার প্রকল্পে বড় প্রশ্ন

বৃহত্তর দিনাজপুর প্রকল্পের আওতায় ২১ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ১৭১ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক, ৮৪২ দশমিক ৫২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন এবং ১৬টি সেতু নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ হওয়ার কথা।

এত বড় প্রকল্পে পিডির দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দরপত্র, ঠিকাদারি কাজ, ব্যয় ব্যবস্থাপনা, প্রকল্পের অগ্রগতি ও সরকারের কাছে জবাবদিহির বড় অংশই তাঁর ওপর নির্ভর করবে।

তাই প্রশ্নগুলোও সরাসরি—

জিও জারির আগেই কেন পিডি নিয়োগ?

ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ চলার সময়ই কেন নিয়োগের তড়িঘড়ি?

প্রকল্পের ডিপিপি তৈরিতে মামুন বিশ্বাসের ভূমিকা কী ছিল?

তাঁর বিরুদ্ধে আগের অভিযোগগুলোর কোনো তদন্ত হয়েছিল কি?

এত বড় সরকারি প্রকল্পে তাঁকে নিয়োগের আগে অভিযোগগুলো যাচাই করা হয়েছিল কি না?

এসব প্রশ্নের উত্তর না মিললে ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

মামুন বিশ্বাস বর্তমানে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন বলে জানান। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

 



ফেসবুকে আমরা