
শিক্ষার আলো ছড়ানোর পবিত্র স্থানে ফের বর্বরতার ছায়া! গাজীপুর মহানগরীর একটি মাদরাসায় পড়া ঠিকমতো দিতে না পারার ‘অপরাধে’ ৭ বছরের এক মাসুম শিশুকে লোহার স্কেল দিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়েছেন আল মামুন নামের এক শিক্ষক। কেবল পিটিয়েই ক্ষান্ত হননি এই পাষণ্ড, শিশুটির কোমরে সজোরে লাথি মেরে ফ্লোরে ফেলে দিয়ে তাকে গুরুতর জখমও করেছেন তিনি।
মর্মান্তিক ও চরম অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৩ মে (২০২৬), গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন পশ্চিম সালনা কসাইবাড়ী এলাকার ‘দারুস সালাম মাদরাসা’য়। এ ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মো. নজরুল ইসলাম গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নির্যাতনের শিকার ওই শিশুর নাম মো. আরিয়ান ইসলাম রিয়ান (৭)। সে ওই মাদরাসারই আবাসিক শিক্ষার্থী।
অভিযোগপত্র ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে মাদরাসার আবাসিক শিক্ষার্থী ছোট্ট রিয়ানের কাছে পড়া ধরতে যান অভিযুক্ত শিক্ষক আল মামুন। শিশুটি পড়া দিতে না পারায় ওই শিক্ষকের ভেতরের পশুত্ব জেগে ওঠে। কোনো রকম বাছবিচার ছাড়াই একটি ভারী লোহার স্কেল দিয়ে রিয়ানের পিঠে ও বাম হাতের ওপরের অংশে এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করেন তিনি। এতে শিশুটির কচি শরীরে মারাত্মক নীলাফোলা জখম তৈরি হয়।
বর্বরতা এখানেই থেমে থাকেনি। অমানুষিক মারধরের এক পর্যায়ে ওই পাষণ্ড শিক্ষক রিয়ানের কোমরে সজোরে লাথি মারেন। লাথির আঘাতে শিশুটি ছিটকে ফ্লোরে পড়ে যায় এবং মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
ছেলের ওপর এমন বর্বরোচিত নির্যাতনের খবর পেয়ে বাবা মো. নজরুল ইসলাম দ্রুত মাদরাসায় ছুটে যান এবং ছেলেকে উদ্ধার করেন। প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে পরদিন (১৪ মে) তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন। ছেলের চিকিৎসা ও স্বজনদের সাথে আলোচনা করতে গিয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলে জানান ভুক্তভোগীর বাবা।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক নামের কলঙ্ক এই আল মামুন অত্যন্ত বদমেজাজী ও উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির। পবিত্র কোরআন শিক্ষার মতো একটি মহান পেশায় যুক্ত থাকলেও তার আচরণ চরম উগ্র। এর আগেও তিনি তুচ্ছ অজুহাতে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর এমন অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছেন।
পবিত্র বিদ্যাপিঠে এমন পৈশাচিক আচরণের কারণে অভিভাবক মহলে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত এই পাষণ্ড শিক্ষকের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।