
ক্ষতিপূরণে অনিয়ম, ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ—দীর্ঘদিন একই শাখায় বহাল, তদন্ত দাবি ভুক্তভোগীদের
সারা দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি জোরদার হলেও পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এল/এ) শাখায় কর্মরত সার্ভেয়ার কমল দেবনাথকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ উপার্জনের অভিযোগে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
সূত্র জানায়, কমল দেবনাথের মূল পদায়ন খুলনা বিভাগে হলেও ২০১৫ সাল থেকে তিনি প্রেষণে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় বদলি হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি পুনরায় এল/এ শাখায় ফিরে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন একই শাখায় অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি।
সাবেক জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনের সময়েও তদবিরের মাধ্যমে পুনরায় ওই শাখায় যোগ দেন কমল দেবনাথ। পরবর্তীতে এল/এ শাখায় নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রশাসনিক পরিবর্তন এলেও তিনি বহাল থাকেন। বর্তমান জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর একাধিক কর্মকর্তা বদলি করলেও কমল দেবনাথ এখনো স্বপদে বহাল থাকায় প্রশ্ন উঠেছে তার ‘অদৃশ্য শক্তি’ নিয়ে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল আটকে রেখে ঘুষ দাবি করা হয়। ঘুষ না দিলে মাসের পর মাস ফাইল ঝুলিয়ে রাখা হয়। এতে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, দলিল যাচাই ও অনুমোদনের নামে কৃত্রিম জটিলতা তৈরি করে কমিশন বাণিজ্যের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, গত কয়েক বছরে ক্ষতিপূরণের টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ আছে, অবৈধ উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি নিজের ও পরিবারের নামে বিপুল সম্পদ গড়েছেন। পায়রা পোর্ট সংলগ্ন চরবালিয়াতলী মৌজায় নামে-বেনামে জমি ক্রয় এবং বরিশাল নগরীর রুপাতলী এলাকায় সহকর্মীদের সঙ্গে বহুতল ভবন নির্মাণের তথ্যও উঠে এসেছে।
সরকারি বেতন কাঠামো অনুযায়ী, ১৪তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মাসিক আয় প্রায় ২৫-৩০ হাজার টাকা। সে হিসেবে তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের দাবি, তার সম্পদের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকার বেশি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কমল দেবনাথের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ইতোমধ্যে বিভাগীয় কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একজন সার্ভেয়ারের পক্ষে এককভাবে এত বড় দুর্নীতি করা সম্ভব নয়; এর পেছনে প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। ফলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
(চলবে—দুদকের অনুসন্ধান শেষে দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশিত হবে)