August 2, 2026, 5:06 am
শিরোনাম :
হানিট্র্যাপ চক্রের মূলহোতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বাউফলে মানববন্ধন ফ্যাসিবাদ উৎখাতের পর্ব শেষ, এখন দেশ গড়ার পালা : জহির উদ্দিন স্বপন মেট্রো স্টেশনে ব্যাগে থাকা বস্তু বোমা নয়, আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান ডিএমপির পুলিশের যানবাহনে হামলার আশঙ্কা, দেশজুড়ে কড়া সতর্কতা পরিচ্ছন্ন ঢাকার বার্তা ৭৫ ওয়ার্ডে একযোগে ‘ক্লিনিং ডে’, ব্যতিক্রমী বর্জ্য শোভাযাত্রা; নাগরিক সচেতনতার ওপর জোর ডিএসসিসির মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে কটূক্তির প্রতিবাদে ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে মশাল মিছিল ধর্মের নামে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই : মির্জা ফখরুল মান্ডার অন্ধকার গলিতে মাদক সাম্রাজ্য: টাইগার পলাতক, সহযোগী আটক দুমকির পিআইওর বিরুদ্ধে প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অবৈধ টমটমের প্রাণঘাতী তাণ্ডব: পটুয়াখালীতে ফিটনেসহীন ইঞ্জিনচালিত যানের চাপায় প্রাণ গেল নারীর

রাজধানীর শাহজাহানপুরে বিস্তৃত মাদক সিন্ডিকেট, প্রকাশ্যে হেরোইন বিক্রি—জড়িত নারী-পুরুষ

সটাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার:

শান্তিবাগ, শহীদবাগ ও বাঙালি গলিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক; প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি এলাকাবাসীর

রাজধানীর শাহজাহানপুর থানা এলাকায় ভয়াবহভাবে বিস্তার লাভ করেছে মাদক ব্যবসা। বিশেষ করে শান্তিবাগ, শহীলবাগে, ১৭ নম্বর গলি, বাঙালি গলি (নাইনটি নাইন এলাকা) এবং মগার বাড়ি গলি ঘিরে একটি সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাধিক সূত্রে জানা যায়, এসব এলাকায় প্রতিদিনই প্রকাশ্যে হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য কেনাবেচা হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দিনের আলোতেও কোনো প্রকার ভীতি ছাড়াই মাদক লেনদেন চলছে। শুধু তরুণ বা পুরুষই নয়, কয়েকজন নারীও সরাসরি এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে—যা সমাজের জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মগার বাড়ি গলি এলাকাকে এই চক্রের অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, এখানে বেশ কয়েকজন নারী প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করে থাকে এবং তাদের পেছনে রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের চোখের সামনে এমন কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর কোনো অভিযান বা স্থায়ী সমাধান দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, ‘মামুন’ নামে এক ব্যক্তি—যিনি এলাকায় ‘বুলেট মামুন’ নামেও পরিচিত—এই চক্রের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেন। তার একটি রিকশা গ্যারেজের সামনে অফিসসদৃশ একটি স্থানে বসে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় বলে জানা গেছে। সেখানে নিয়মিত মাদক লেনদেন, হিসাব-নিকাশ এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হয়।

এছাড়াও তার অধীনে আরও কয়েকজন সক্রিয় সদস্য রয়েছে, যারা বিভিন্ন গলি ও এলাকায় মাদক সরবরাহ এবং বিক্রির দায়িত্বে নিয়োজিত। বিশেষ করে বাঙালি গলি এলাকায় তদন্ত চালালে পুরো নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি এবং জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, মাদক ব্যবসার কারণে এলাকার পরিবেশ দিন দিন অবনতি ঘটছে। কিশোর ও তরুণরা সহজেই মাদকের নাগালে চলে আসছে, যার ফলে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধও বেড়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর অনেক বাসিন্দাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

একজন সচেতন নাগরিক বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত ভয় নিয়ে বসবাস করছি। আমাদের সন্তানরা বিপথে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।”

সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর আবাসিক এলাকায় এভাবে মাদকের বিস্তার একটি বড় ধরনের সামাজিক সংকটের ইঙ্গিত দেয়। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, নিয়মিত অভিযান, গোপন নজরদারি এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে এই মাদক সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া সম্ভব।

এলাকাবাসীর জোর দাবি—শান্তিবাগ, শহীদবাগে ও আশপাশের এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং পুরো এলাকাকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করা হোক। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।



ফেসবুকে আমরা