
নিজস্ব প্রতিবেদক
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একাধিক হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবিএম সিদ্দিক প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মামলার বাদী ও অভিযোগকারীদের দাবি, গুরুতর মামলায় নাম থাকার পরও তাকে গ্রেপ্তার না করায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, এবিএম সিদ্দিক বনানী থানার সিআর মামলা নং-২৭৫/২০২৬-এর ১০ নম্বর আসামি। এছাড়া হাতিরঝিল থানার সিআর মামলা নং-১২১৪/২০২৪-এর ৭ নম্বর এবং তেজগাঁও থানার সিআর মামলা নং-৯/৯২৬-এর ৫ নম্বর আসামি হিসেবেও তার নাম রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, এসব মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও এবিএম সিদ্দিককে প্রকাশ্যে বিভিন্ন এলাকায় চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত একজন আসামি কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মামলার বাদীরা।
আন্দোলন ঘিরে হামলার অভিযোগ
বাদীপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর বনানী, হাতিরঝিল, মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার এবং হামলায় অর্থায়নের অভিযোগও মামলাগুলোতে উঠে এসেছে বলে তারা দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ফলাফলের ওপরই অভিযোগগুলোর আইনগত সত্যতা নির্ভর করবে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থায়নের অভিযোগ
এবিএম সিদ্দিকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কাজ পাওয়ার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এনজিওর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ কাজ ও অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
বাদীপক্ষের আরও অভিযোগ, তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তিনি আর্থিকভাবে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট নথি, আর্থিক হিসাব বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
বাদীপক্ষের প্রশ্ন—গ্রেপ্তার কেন নয়?
মামলার বাদীদের ভাষ্য, “এজাহারে নাম থাকা সত্ত্বেও যদি একজন আসামি প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করেন, তাহলে তদন্ত ও আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।”
তাদের দাবি, মামলাগুলো তদন্তাধীন থাকলে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এটাই তাদের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে এবিএম সিদ্দিকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানা জরুরি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানা ও তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্যও নেওয়া প্রয়োজন—মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা কী, আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা অন্য কোনো আইনগত ব্যবস্থা রয়েছে কি না এবং তিনি প্রকাশ্যে থাকলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি কেন।
প্রতিবেদনের মূল প্রশ্ন: একাধিক মামলায় এজাহারভুক্ত একজন আসামি যদি প্রকাশ্যে চলাফেরা করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে মামলাগুলোর বর্তমান আইনগত অবস্থান কী এবং তদন্তকারী সংস্থা এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছে—তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি।