
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তা ও অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম কিবরিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করার ঘটনায় নগর ভবনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একসময় রাজনৈতিক নিপীড়ন, একাধিক মামলা, কারাবরণ এবং দীর্ঘ চাকরিচ্যুত জীবনের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই কর্মকর্তা এখন প্রশাসনিক তদন্তের মুখোমুখি।শুধু তাই না তার পুরো ফ্যামিলি জুলাই আন্দোলনে ছোট বাচ্চাসহ রাজপথে সংগ্রাম করেছে
ডিএসসিসির জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত রেখে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে টেন্ডার কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার, মার্কেটের দোকান বরাদ্দ ও পরিচালনায় অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হলেও আদেশে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা, অভিযোগকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সহকর্মীদের একাংশের দাবি, গোলাম কিবরিয়ার কর্মজীবন দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংগ্রামের সাক্ষী। ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ২৬টি মামলা দায়ের হয়েছিল। ২০১৮ সালে গ্রেপ্তারের পর তিনি চার মাসের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। পরিবারের সদস্যরাও বিভিন্ন মামলার কারণে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানা যায়।
ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা প্রতিকূলতার কারণে তাকে প্রায় ছয় বছর চাকরিচ্যুত অবস্থায় থাকতে হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে দায়িত্বে ফিরে এসে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং পরে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন।
ডিএসসিসির কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, সংস্থার অভ্যন্তরে বর্তমানে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। তাদের মতে, সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তের পেছনে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বও একটি কারণ হতে পারে। তবে অভিযোগের প্রকৃতি ও সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলেও তারা মত দেন।
এদিকে যোগাযোগ করা হলে গোলাম কিবরিয়া বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে এবং তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”
বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি শুধু একজন কর্মকর্তার সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার বিষয় নয়; বরং এটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এটাই প্রত্যাশা। আবার অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে একজন কর্মকর্তার পেশাগত ও ব্যক্তিগত ক্ষতির দায়-দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।