
ইরানে নতুন করে বড় হামলার হুমকি দিয়েও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার তিনি বলেছিলেন, এই সপ্তাহেই নতুন সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জানান, আপাতত হামলা স্থগিত রাখা হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে কূটনৈতিক আলোচনা, যুদ্ধের বাস্তবতা এবং ইরানের পাল্টা সক্ষমতা নিয়ে নতুন হিসাব।
ট্রাম্প বলেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা তাকে হামলার সময় পিছিয়ে দিতে অনুরোধ করেছেন। তাদের বিশ্বাস, আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি সমাধান বের করা সম্ভব, যা ওয়াশিংটনকে সন্তুষ্ট করতে পারে।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমরা আগামীকাল বড় ধরনের একটি হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু আমি সেটি কিছু সময়ের জন্য থামিয়ে রেখেছি। তিনি আরও বলেন, যদি বোমা না ফেলেই এটা করা যায়, তাহলে আমি খুবই খুশি হব।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। বহু ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি আবার চালু করেছে দেশটি। ভূগর্ভের গভীরে থাকা অনেক স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস করাও সম্ভব হয়নি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের গতিবিধিও ইরান আগেভাগে বুঝে ফেলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও চাপ বাড়ছে। এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৪ শতাংশ ভোটার ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে ভুল মনে করছেন। যুদ্ধের অর্থনৈতিক ব্যয় নিয়েও অসন্তোষ বাড়ছে।
ট্রাম্প শুরুতে বলেছিলেন, যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। কিন্তু তিন মাস পেরিয়েও পরিস্থিতি জটিল রয়ে গেছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি থামানো যায়নি। হরমুজ প্রণালি নিয়েও উত্তেজনা অব্যাহত আছে।
তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করছেন, ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তন কৌশলগতও হতে পারে। কারণ এর আগেও আলোচনার আড়ালে হঠাৎ সামরিক হামলা শুরু করেছে ওয়াশিংটন।