
খিলগাঁও (ঢাকা) প্রতিনিধি:
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের খিলগাঁও থানাধীন নন্দীপাড়া বড় বটতলা এলাকার ‘দশের গলি’ রাতে মাদক কারবারিদের অন্যতম নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। সূর্যাস্তের পর থেকেই এলাকায় শুরু হয় মাদকের রমরমা ব্যবসা, যা গভীর রাত পর্যন্ত নির্বিঘ্নে চলে। অথচ রহস্যজনকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা স্থানীয় মাদক প্রতিরোধ কমিটির দৃশ্যমান কোনো নজরদারি বা উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই গলিতে প্রতিদিন রাত নামলেই অচেনা ও সন্দেহভাজন লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায়। প্রকাশ্যে ও গোপনে সব ধরনের হমাদক বেচাকেনা চলে। এতে করে স্থানীয় তরুণ সমাজ বিপথগামী হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয় স্থায়ী বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মাদক কারবারিদের কাছে আগাম তথ্য পৌঁছে যায় নাকি অন্য কোনো মাধ্যম আছে তা স্পষ্ট নয়—তবে পুলিশ বা মাদক প্রতিরোধ কমিটির লোকজনের উপস্থিতি টের পাওয়া মাত্রই দ্রুত মাদক কারবারিরা স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। অভিযান শেষ হলে বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চলে গেলেই তারা আবারও আগের স্থানে ফিরে এসে স্বাভাবিকভাবে মাদক ব্যবসা চালাতে শুরু করে।
এ অবস্থায় স্থানীয় সুশীল সমাজ ও অধিবাসীরা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হঠাৎ দু-একটি সাধারণ অভিযানের বদলে এলাকাটিতে নিয়মিত টহল, গোপন নজরদারি এবং সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
নন্দীপাড়া বড় বটতলা দশের গলিকে মাদক মুক্ত করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, খিলগাঁও থানা পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত দৃষ্টি আকর্ষণ ও কঠোর আইনি হস্তক্ষেপের আকুল আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।