
সাংবাদিক সম্মেলন | কাঁচপুর পূর্ব বেহাকৈর, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ।
নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের পূর্ব বেহাকৈর এলাকায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, পৈতৃক জমি ও বাড়ি দখলের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি এবং মারধরের অভিযোগ উঠেছে সালাউদ্দিন ওরফে সালু, ইসহাক ভূঁইয়া, মফিজুর ওরফে গাউঙ্গা, রাজন ভূঁইয়া, নূরুল হক, নয়ন ভূঁইয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রানু আক্তার ও তাঁর বোন জহুরা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বেহাকৈর মৌজায় তাঁদের বাবা আব্দুর রবের মালিকানাধীন ৮১ শতাংশ জমির মধ্যে ৪২ শতাংশ জমি ও বাড়ি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। বাবার মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে তাঁরা ওই সম্পত্তির মালিকানা পেয়েছেন বলে দাবি করেন। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, ওই জমি দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
রানু আক্তারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর ২০২৬ দুপুরে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে গিয়ে হট্টগোল সৃষ্টি করেন এবং বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেন। পরদিন ১৭ অক্টোবর আবারও বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ সময় বাড়িতে থাকতে হলে ৫০ লাখ টাকা দিতে হবে এবং টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ করা হবে—এমন হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
অন্যদিকে, রানু আক্তারের বোন জহুরার অভিযোগ, গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে চার বছর বয়সী মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে রসুলবাগ থেকে পৈতৃক বাড়িতে যাওয়ার পথে শিমরাইল মাছবাজার সড়কে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাঁকে মারধর করে একটি রেডমি নোট ১৩ মডেলের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি সুইচ গিয়ার দিয়ে আঘাতের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন জহুরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন সাধারণ মানুষের জমি ও বাড়ি দখল কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের সুযোগ না পায়। তাঁরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, পৈতৃক সম্পত্তির নিরাপত্তা, পরিবারের সদস্যদের জানমালের সুরক্ষা এবং অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে যুক্ত করা হবে।
ভুক্তভোগী রানু আক্তারের দাবি—পৈতৃক জমি ও বাড়ি রক্ষা, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হোক।
বিএনপির নাম ব্যবহার করে জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ—প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চায় রানু আক্তারের পরিবার”