
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :
কুষ্টিয়ায় শ্রমিক নেতা কমরেড রেজন বিশ্বাসের ২৮-তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলের দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের শাওতা মোড়ে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন, কুষ্টিয়া জেলা শাখার উদ্যোগে এ স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রমিক নেতা শহীদ কমরেড রেজানুর রহমান রেজন বিশ্বাসের ২৮-তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সমাধিস্থলে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন সভায় উপস্থিত শ্রমিক ইউনিয়নের জেলার নেতৃবৃন্দ, সাধারণ জনগণ এবং কর্মী সমর্থক বৃন্দ।

স্বরণ সভায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সভা শুরু করা হয়। এরপর সবাই এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। সংগঠনের শপথ পাঠ করান জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল হক আসাদ।
উক্ত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বারি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় গনতান্ত্রিক ফ্রন্টের জেলা সাধারণ সম্পাদক আসাদুল হক আসাদ। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি আবুল কাশেম। আরও বক্তব্য রাখেন কুমারখালী উপজেলার সাধারণ সম্পাদক কৃষক নেতা আব্দুল মান্নান।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলা স্বর্ণ শিল্প সমিতির সভাপতি পলান বিশ্বাস, বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট ও মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়নের কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি রমজান বিশ্বাস, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ কুষ্টিয়া জেলা আহ্বায়ক গীতিকার আজব আলী, ফার্নিচার শ্রমিক সংঘের কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি আমানত শেখ ও ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সদর উপজেলা সভাপতি তোরাব ব্যাপারী প্রমুখ। উক্ত স্বরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের কুষ্টিয়া জেলা আহ্বায়ক সোলায়মান পারভেজ এবং সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা ট্রেড ইউনিয়নের জেলা শাখার যুগ্ন আহবায়ক মৃত্যুঞ্জয়।
উক্ত স্মরণ ভায় বক্তারা শ্রমিক নেতা শহীদ কমরেড রেজানুর রহমান রেজন বিশ্বাসের দলের প্রতি নিবেদন, জীবন, আদর্শ ও মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করেন।
এ সময় তারা বলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচিত সাবেক সদস্য ও কুমারখালী উপজেলা শাখার প্রধান কমরেড রেজানুর রহমান রেজন বিশ্বাস ১৯৯৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে জাসদ গণবাহিনীর হাতে নাটুরিয়া বাজারের পাশে রাতের বেলা নির্মমভাবে শহীদ হন। তিনি কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের সিংদাহ গ্রামে জয়নাল বিশ্বাস এর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শ্রেণীবিভক্ত সমাজের শোষণ বঞ্চনা প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। আর সেই জন্যই তিনি বেছে নিয়েছিলেন মজুরি দাসত্বের শিকল ভেঙে সমাজ পরিবর্তনের রাজনীতিকে। কিন্তু প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি প্রতি বিপ্লবী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীরা বিপ্লবী রাজনীতিকে মেনে নিতে পারেননি। তাই ১৯৯৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তার সহযোদ্ধা কৃষক নেতা আব্দুস সাত্তার ফকিরকে হত্যা করলে তিনি ওই সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জাসদ গণবাহিনীর সন্ত্রাসীরা ১৯৯৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে সিংদাহ গ্রামের নিজ বাড়িতে আক্রমণ করেন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে। তখন তিনি সাংগঠনিক কাজে কমলাপুরে অবস্থান করছিলেন। বাড়ি আক্রমণের কথা শুনে কৃষক জনতাকে সাথে নিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনীকে ধাওয়া করে নাতুরিয়া বাজার পর্যন্ত নিয়ে যান। নাতুরিয়া থেকে রাতে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের আক্রমণে দুধকুমড়া চড়ের ভূমিহীন নেতা হিরু সহ শহীদ হন। বক্তারা বলেন কমরেড রেজন বিশ্বাস মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মুক্তির যে পথ দেখিয়ে গেছেন তা আমরা ধরে রাখি। তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য রেখে যাওয়া বিপ্লবী দায়িত্ব নেওয়ার শপথ গ্রহণ করি। তাহলে এই কমরেড রেজন বিশ্বাস ও হিরু ভাই সহ অসংখ্য শহীদদের আত্ম বলিদান সার্থক হবে। আমরা তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। মহান আল্লাহ যেন তাদের শহীদি মর্যাদা দিয়ে বেহেস্ত নসিব করেন।