
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
কেউ হয়েছেন শিক্ষক, কেউ সাহিত্যিক, কেউ রাজনীতিবিদ, কেউ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক।
তবে জানেন কি?
এই চাঁদপুরেরই একজন সন্তান একসময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন!
তিনি হলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী।
কে ছিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী?
মিজানুর রহমান চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন ১৯ অক্টোবর ১৯২৮ সালে, চাঁদপুর জেলার পুরাণবাজারের পূর্ব শ্রীরামদী গ্রামে।
পিতা মোহাম্মদ হাফিজ চৌধুরী এবং মাতা মাহমুদা চৌধুরী।
চাঁদপুরের নুরিয়া হাই মাদ্রাসায় পড়াশোনা শেষে তিনি ফেনী কলেজ থেকে ১৯৫২ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবন শেষ করে তাঁর কর্মজীবনের শুরু হয় শিক্ষকতা দিয়ে।
📚 শিক্ষক থেকে রাজনীতির মাঠে
ফেনী কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বামনী জুনিয়র হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কিন্তু শিক্ষকতার জীবনেই তাঁর পথচলা থেমে থাকেনি।
মানুষের অধিকার ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
১৯৫৯ সালে তিনি চাঁদপুর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে ১৯৬২, ১৯৬৫ ও ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
একজন শিক্ষক থেকে ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা।
৬-দফা আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের দিনগুলো:
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬-দফা ঘোষণা করলে মিজানুর রহমান চৌধুরী আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
বঙ্গবন্ধুসহ দলের অনেক শীর্ষ নেতা গ্রেফতার হওয়ার পর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন।
ঐতিহাসিক ৭ জুনের ৬-দফা আন্দোলনের হরতাল সংগঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁকে একাধিকবার কারাবরণও করতে হয়। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময়ও তিনি সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়:
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মিজানুর রহমান চৌধুরী রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ভারতের আগরতলায় গিয়ে যুদ্ধকালীন দলীয় কার্যক্রম সংগঠিত করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীনতার পর নতুন বাংলাদেশেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্ব পালন করেন। তথ্য ও বেতার এবং পরবর্তীতে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর আসে সেই ঐতিহাসিক দিন ৯ জুলাই ১৯৮৬।
এই দিন মিজানুর রহমান চৌধুরী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তিনি ২৭ মার্চ ১৯৮৮ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের তথ্যেও তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়কাল ৯ জুলাই ১৯৮৬ থেকে ২৭ মার্চ ১৯৮৮ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
একটু ভাবুন…
চাঁদপুরের পুরাণবাজারের পূর্ব শ্রীরামদী গ্রামের একজন মানুষ একসময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন!
একজন শিক্ষক…
তারপর রাজনীতির কর্মী…
আন্দোলনের সংগঠক…
মন্ত্রী…
আর শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
২০০৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন মিজানুর রহমান চৌধুরী। চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের সরকারি ওয়েবসাইটেও তাঁকে চাঁদপুর জেলার প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় রয়ে গেছে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা।
চাঁদপুরের মাটিতে জন্ম নেওয়া একজন মানুষ একসময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
হয়তো আজকের তরুণ প্রজন্মের অনেকেই এই ইতিহাস জানে না। তাই নিজের জেলার ইতিহাস জানুন।
জানুন চাঁদপুরের গুণী মানুষদের কথা।
আর সেই ইতিহাস পৌঁছে দিন নতুন প্রজন্মের কাছে।