
নিজস্ব প্রতিবেদক |
রাজধানীর মুগদায় নির্মাণাধীন কয়েকটি ভবন ঘিরে নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের অসঙ্গতি, অনুমোদিত তলা সংখ্যা, রাস্তার প্রস্থ, Setback ও FAR–সংক্রান্ত প্রশ্ন। একই সঙ্গে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাতে সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগও উঠেছে।
তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পকে আগাম অনিয়মকারী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন রাজউকের অনুমোদিত নকশা, নির্মাণ অনুমোদন, পরিদর্শন প্রতিবেদন, নোটিশ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের নথি।
এ কারণে সম্ভাব্য ক্রেতাদেরও শুধু ডেভেলপারের বিজ্ঞাপন, ব্রোশিওর বা বিক্রয় প্রতিনিধির মৌখিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিনিয়োগের আগে নথি যাচাই
কোনো ডেভেলপারের কাছ থেকে ফ্ল্যাট, প্লট বা বাণিজ্যিক স্পেস কেনার আগে জমির মালিকানা, রাজউক অনুমোদিত নকশা, নির্মাণ অনুমোদন, অনুমোদিত তলা সংখ্যা, রাস্তার প্রস্থ, FAR, Setback এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন যাচাই করা জরুরি।
কোনো প্রকল্পের বিরুদ্ধে নোটিশ, মামলা বা নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের তথ্য থাকলে তার লিখিত নথিও দেখা প্রয়োজন।
‘ম্যানেজ’ বাণিজ্যের অভিযোগ
নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করে বিষয়টি সামাল দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে কোনো কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অর্থের বিনিময়ে অনিয়মে সহায়তা করেছেন—এমন দাবি তদন্ত বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।
বরং অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে—কোন কর্মকর্তা কখন দায়িত্বে ছিলেন, কোন ভবন পরিদর্শন করেছেন, কী প্রতিবেদন দিয়েছেন এবং সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব তথ্য নথির মাধ্যমে যাচাই করা।
মেধা কনস্ট্রাকশনের বক্তব্য
মেধা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপার্সের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। ফোনে যোগাযোগের পাশাপাশি তাদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়।
তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সংস্করণে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
অনুসন্ধান চলছে
মুগদার নির্মাণাধীন ভবনগুলো নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে অনুমোদিত নকশা, রাজউকের পরিদর্শন ও নোটিশ, নির্মাণের বর্তমান অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এই অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আগাম দোষী সাব্যস্ত করা নয়। অভিযোগের সঙ্গে সরকারি নথি ও বাস্তব নির্মাণের মিল-অমিল যাচাই করে প্রকৃত চিত্র পাঠকের সামনে তুলে ধরাই লক্ষ্য।
অনুসন্ধান চলমান।
প্রথম পাতার বক্স
আগামী পর্বে
অনুমোদিত নকশা বনাম বাস্তব নির্মাণ
মুগদার নির্মাণাধীন ভবনগুলো নিয়ে রাজউকের নথিতে কী আছে?
কোন ভবনে কী অনুমোদন, বাস্তবে কত তলা নির্মাণ, রাস্তার প্রস্থ ও Setback কত, রাজউকের পরিদর্শনে কী পাওয়া গেছে এবং নোটিশের পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—দ্বিতীয় পর্বে থাকছে নথির আলোকে বিস্তারিত অনুসন্ধান।