
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘ কারাবাস, মামলা ও আইনি লড়াইয়ের কঠিন সময় পেরিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন। বিএনপির নেতা তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ব্যবসায়িক সহযোগী হিসেবে পরিচিত মামুনের জীবনের একটি দীর্ঘ সময় কেটেছে কারাগারে। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার পর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্তি পান।
বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অর্থপাচার ও কর ফাঁকিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়। এসব মামলার কয়েকটির আইনি পরিণতিতেও পরবর্তী সময়ে পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি অস্ত্র মামলায় হাইকোর্ট তাকে খালাস দেন। ওই মামলায় ২০০৭ সালে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
এ ছাড়া সিঙ্গাপুরে অর্থপাচারের অভিযোগে করা মামলায় ২০২৫ সালের ৬ মার্চ আপিল বিভাগ তারেক রহমান ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে খালাস দেন এবং আগের সাজা বাতিল করেন। মামলাটিতে ২০০৩ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
দীর্ঘ এই আইনি লড়াই ও কারাবাসের সময়েও তারেক রহমানের সঙ্গে মামুনের পুরোনো বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছিল। মামুনের ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি সেই সম্পর্ক থেকে সরে যাননি।
গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বক্তব্য হিসেবে প্রচারিত হয়েছে, তারেক রহমানের কাছ থেকে তিনি সততা ও জীবনযাপনের শিক্ষা পেয়েছেন। তিনি বলেন, “উনার কাছ থেকে আমার কিছুই চাওয়ার নেই। উনি আমাদের আইডল। উনার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সন্তান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের পাশাপাশি তারেক রহমানের জীবন ও আদর্শ থেকেও শেখার রয়েছে বলে মনে করেন মামুন।
দীর্ঘ কারাবাস, আইনি লড়াই এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পুরোনো বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক ধরে রাখার বিষয়টি সামনে এসেছে গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে ঘিরে আলোচনায়। তার ঘনিষ্ঠজনদের মতে, কঠিন সময় পেরিয়ে গেলেও তারেক রহমানের প্রতি মামুনের ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের জায়গাটি এখনও অটুট।