
কুমিল্লা প্রতিনিধি।
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভুলইন উত্তর ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে ‘মানবিক ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন সৌদি প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল জলিল সওদাগর। সুদূর প্রবাসে থেকেও নিজ এলাকার মানুষের দুঃখ-কষ্টের খোঁজখবর রাখা এবং ব্যক্তিগত অর্থায়নে তাদের পাশে দাঁড়ানোর ফলে ইউনিয়নটির সাধারণ মানুষের মাঝে তিনি আজ এক জনপ্রিয় ও আলোচিত নাম। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার—সর্বত্রই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর সততা ও মানবতা। দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ তাঁকে আগামীর সম্ভাব্য যোগ্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, কোনো ধরনের দলীয় পদ বা রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে এলাকায় মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন তিনি। গরিব-দুঃখী মানুষের বিপদে গোপনে আর্থিক সহায়তা, অসুস্থদের চিকিৎসা ব্যয় বহন এবং অস্বচ্ছল পরিবারের কন্যার বিবাহে সহযোগিতার মতো মহৎ কাজগুলো তিনি নিয়মিত করে আসছেন। স্থানীয় মসজিদ, মাদ্রাসা এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অনুদান প্রদানের মাধ্যমে তিনি অত্র এলাকার শিক্ষা ও ধর্মীয় সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। প্রবীণ স্থানীয়রা জানান, ‘আবদুল জলিল সওদাগর কখনো নিজেকে জাহির করতে চাননি। তিনি নীরবে কাজ করে গেছেন, আর সেই কাজের ফলস্বরূপ আজ এলাকাবাসীই তাঁকে আগামীর যোগ্য নেতা হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন।’
সম্প্রতি প্রবাস থেকে আমাদের প্রতিনিধি মোঃ সফিউল আলমের সাথে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আবদুল জলিল সওদাগর তাঁর বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমি বর্তমানে ব্যবসায়িক কাজে দেশের বাইরে অবস্থান করছি। আমি কখনো উচ্চাভিলাষী হয়ে চেয়ারম্যান বা এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখিনি। আমার একমাত্র লক্ষ্য ছিল রাব্বুল আলামিন আমাকে যতটুকু তৌফিক দিয়েছেন, তা দিয়ে ভুলইন উত্তর ইউনিয়নের অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের মুখে সামান্য হাসি ফোটানো।”
স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দেশ থেকে অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী ভাই আমাকে প্রতিনিয়ত কল দিচ্ছেন এবং নির্বাচনে আসার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন। আমি মনে করি, এটি জনগণের ভালোবাসা ও দোয়ার ফসল। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যদি কবুল করেন এবং আমার প্রিয় ইউনিয়নবাসী যদি সমর্থন ও সহযোগিতা করেন, তবে আমি ইনশাআল্লাহ স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।”
নির্বাচিত হলে নিজের কাজের ধরণ কেমন হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান, “আমি যদি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হই, তবে নিজেকে কখনোই শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করব না। আমি জনগণের একজন সেবক হয়ে আমৃত্যু তাদের পাশে থেকে উন্নয়নের কাজ করে যেতে চাই।”
আবদুল জলিল সওদাগরের এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও জনগণের সেবার মানসিকতা ভুলইন উত্তর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তৃণমূলের মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা ও সমর্থন তাঁকে আগামী নির্বাচনী লড়াইয়ে এক বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে।