October 29, 2026, 3:29 am
শিরোনাম :
অপরাধ ঢাকতে সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি: ফেসবুকে জেসিকার ‘আত্মহত্যার হুমকি’ রেজিস্টারে মিলছে না হিসাব, তাহলে কৃষকের সার যাচ্ছে কোথায়? ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কাল ভোট, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে নির্বাচনি সরঞ্জাম ‎ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অংশে ডেমরা সেতু সংস্কার কাজের জন্য   ৩ কিলোমিটার জুড়ে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা রূপগঞ্জে লক্ষীপূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে হাজী মাসুমের শুভেচ্ছা বিনিময় পটুয়াখালীতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সারারাত ধরে পরিষ্কার হলো পরিষ্কার হলো ঢাকা- সিলেট মহাসড়ক কালীগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় মালামাল উদ্ধারসহ -২ ডাকাত গ্রেফতার চৌদ্দগ্রামে আ’লীগের তান্ডবের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল পায়রা নদীতে যৌথ অভিযানে সাড়ে ৭ লাখ টাকার জাল জব্দ

ফাঁড়িতে অভিযোগ, তদন্তে গড়িমসি? অভিযোগের ৫ দিন পরও তদন্ত প্রতিবেদন নেই; বদলি হয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা—মানিকনগর ফাঁড়িতে বহাল পাঁচ কনস্টেবল নিয়েও প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার:

 

রাজধানীর মুগদা থানার মানিকনগর পুলিশ ফাঁড়িকে ঘিরে অভিযোগের পর অভিযোগ উঠলেও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগে স্থানীয় এক নারী মাদক ব্যবসা, ভয়ভীতি ও হামলার অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন। অভিযোগপত্রে ঘটনাস্থল হিসেবে পূর্ব মানিকনগরের একটি ঠিকানা এবং ঘটনার সময় হিসেবে সকাল ৭টার কথা উল্লেখ রয়েছে।

 

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং নাবালক শিশুদের টার্গেট করে মাদক ব্যবসা ও দেহব্যবসায় জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরে নিজের সন্তানদের রক্ষায় এগিয়ে গেলে তাকে মারধর, ভয়ভীতি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

 

অভিযোগের পর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মতিঝিল এলাকায় বদলির বিষয়টি সামনে এসেছে বলে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—তদন্ত কর্মকর্তা বদলি হলে তদন্তের দায়িত্ব কার কাছে, আর অভিযোগের নিষ্পত্তিই বা কবে?

 

অভিযোগের পরও পাঁচ কনস্টেবল বহাল

 

মানিকনগর পুলিশ ফাঁড়ির পাঁচ কনস্টেবল এখনও দায়িত্বে বহাল রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের দায়িত্ব পালন ও কথিত অর্থ লেনদেন নিয়ে আগেও স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার কথাও এলাকায় আলোচিত। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদকের হাতে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ নেই।

 

তাই প্রশ্ন উঠছে—অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সদস্যদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি কি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করেছে?

 

‘মোটা ঘুষ’—অভিযোগ, প্রমাণ কোথায়?

 

ফাঁড়িকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে কথিত অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করছেন, বিভিন্ন ঘটনায় আসামিপক্ষের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে সমঝোতার চেষ্টা হয়েছে।

 

তবে ‘ঘুষ’ নেওয়ার অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজন সাক্ষ্য, লেনদেনের প্রমাণ, কল রেকর্ড, লিখিত অভিযোগ, মামলা-জিডির নথি এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য।

 

অতএব তদন্তের প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

 

অভিযোগপত্রেই গুরুতর তথ্য

 

১৮ সেপ্টেম্বরের লিখিত অভিযোগে বাদী শাকিলা আক্তার রুমা তার নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের কর্মকাণ্ড বন্ধে পদক্ষেপ প্রয়োজন।

 

অভিযোগকারী আরও উল্লেখ করেছেন, হামলার ঘটনায় তিনি আহত হয়ে মুগদা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং চিকিৎসাপত্র সংযুক্ত করেছেন।

 

এখন তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি—ঘটনাটি সত্যিই ঘটেছে কি না, কারা জড়িত এবং অভিযোগের সঙ্গে মাদক ব্যবসা বা অন্য কোনো অপরাধের সম্পর্ক রয়েছে কি না।

 

প্রশ্ন এখন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে

 

১. ১৮ সেপ্টেম্বরের অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা কে ছিলেন?

 

২. অভিযোগের পাঁচ দিন পরও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়ার কারণ কী?

 

৩. সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বদলি হয়ে থাকলে তদন্তের দায়িত্ব কার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে?

 

৪. মানিকনগর ফাঁড়ির পাঁচ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের কোনো বিভাগীয় যাচাই হয়েছে কি?

 

৫. অভিযোগকারী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি?

 

তথ্যবক্স | নথিতে যা আছে

 

অভিযোগের তারিখ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অভিযোগের ধরন: মাদক ব্যবসা, ভয়ভীতি, হামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন

অভিযোগকারী: শাকিলা আক্তার রুমা

থানা: মুগদা, ঢাকা

ঘটনাস্থল: পূর্ব মানিকনগর

অভিযোগে উল্লেখিত সময়: সকাল ৭টা

চিকিৎসা: মুগদা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল—অভিযোগপত্র অনুযায়ী

বর্তমান প্রশ্ন: তদন্ত প্রতিবেদন কোথায়?

 

 

মানিকনগর ফাঁড়িকে ঘিরে আগে থেকেই মাদক, জুয়া ও অর্থ লেনদেনের নানা অভিযোগ আলোচনায় রয়েছে। তার মধ্যে লিখিত অভিযোগ, তদন্তে বিলম্ব এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বে বহাল থাকার বিষয়গুলো নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

 

অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নিতে হবে; অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও তদন্তে প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু তদন্ত না হলে কোনো পক্ষই স্বচ্ছ জবাব পাবে না।

 

মানিকনগরবাসীর প্রশ্ন—অভিযোগ জমা পড়েছে, সময়ও পেরিয়েছে; এখন তদন্ত প্রতিবেদন কোথায়?



ফেসবুকে আমরা