
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় দীর্ঘায়িত বর্ষা ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে কৃষকদের উদ্বেগ বাড়ছে। টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১৮৭ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মাটিতে অতিরিক্ত রস থাকায় আগাম কন্দ পেঁয়াজ রোপণ পিছিয়ে যাচ্ছে।
ঈশ্বরদীর হার্ডিং ব্রিজ সংলগ্ন দাদাপুর চরের কৃষক একটি কৃষক বলেন, চলতি মাসের শুরুর দিকে পদ্মার পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়ে তাঁর কলাবাগান সহ অন্যান্য ফসল তলিয়ে যায়। দীর্ঘায়িত বর্ষার কারণে তিনিসহ এলাকার শত শত কৃষক এখন ক্ষতিগ্রস্ত।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুর দিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীরবর্তী চরাঞ্চলের প্রায় ১৮৭ হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হয়। এর ফলে শাকসবজি, মাষকলাই, মরিচ, কলা ও ধান সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে গেছে। যার আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, গঙ্গা অববাহিকা থেকে আসা উজানের ঢল ও টানা বর্ষণে পদ্মার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও জমিগুলো ভেজা থাকায় এখনই নতুন করে ফসল রোপণ সম্ভব হচ্ছে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, উজানের ঢলে নদীর পানি বাড়লেও তা বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। বর্তমানে নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।
এদিকে নদীর পানি কমলেও বর্ষার কারণে মূল দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে আগাম কন্দ পেঁয়াজ চাষ নিয়ে। সাধারণত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে আগাম পেঁয়াজ রোপণ করতে হয়।
উপজেলার এক পেঁয়াজ চাষি জানান, তিনি প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে ৮ থেকে ১০ বিঘা জমিতে কন্দ পেঁয়াজ রোপণ করেন। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মাটি এখনো ভেজা। চলতি মাসের মধ্যে রোপণ করতে না পারলে আগাম জাতের পেঁয়াজ চাষ বাদ দিতে হবে। অন্য কৃষকরাও জানান, চারা পচে যাওয়ার ভয়ে তারা জমিতে নামতে পারছেন না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চলতি মৌসুমে ৯ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে কন্দ পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনেক এলাকাতেই এখনো রোপণ কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।