
নিজ স্কুল ছেড়ে অন্যত্র ক্লাস, দুর্ভোগে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা—নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন
স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর মানিকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলমান নির্মাণ ও সংস্কারকাজে ধীরগতির কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে কাজ চললেও এর দৃশ্যমান অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের অন্যত্র ক্লাস করতে হচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান, বাড়ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি।
অভিভাবকদের অভিযোগ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করার কারণ হতে পারে না। কিন্তু নির্মাণকাজের দীর্ঘসূত্রতার কারণে এখন শিক্ষার্থীদেরই এর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে অন্যত্র ক্লাস করায় কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার পরিবেশও নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
কাজের গতি নিয়ে ক্ষোভ
স্থানীয়দের প্রশ্ন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার দায়িত্ব কার? দিনের পর দিন নির্মাণকাজ চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি কতটা হচ্ছে—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিভাবকদের দাবি, নির্মাণকাজের অগ্রগতি, নির্ধারিত সময়সীমা এবং কাজ শেষ করার সম্ভাব্য তারিখ স্পষ্টভাবে জানানো হোক। একই সঙ্গে ধীরগতির কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
শিশুদের শিক্ষা নিয়ে কোনো গাফিলতি নয়
অভিভাবকরা বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজ প্রয়োজনীয় হলেও সেই কাজের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা দীর্ঘদিন ব্যাহত হতে পারে না। শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত কাজ শেষ করার বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চান তারা।
স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে কাজের গতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি কাজের মান ও নির্ধারিত সময়সীমা ঠিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তাও কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে।
জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি
মানিকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
তাদের প্রত্যাশা, বিষয়টি আর দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে না রেখে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত কাজ শেষ করে তাদের নিজ বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শ্রেণি কার্যক্রম ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।