October 29, 2026, 10:10 am
শিরোনাম :
অপরাধ ঢাকতে সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি: ফেসবুকে জেসিকার ‘আত্মহত্যার হুমকি’ রেজিস্টারে মিলছে না হিসাব, তাহলে কৃষকের সার যাচ্ছে কোথায়? ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কাল ভোট, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে নির্বাচনি সরঞ্জাম ‎ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অংশে ডেমরা সেতু সংস্কার কাজের জন্য   ৩ কিলোমিটার জুড়ে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা রূপগঞ্জে লক্ষীপূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে হাজী মাসুমের শুভেচ্ছা বিনিময় পটুয়াখালীতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সারারাত ধরে পরিষ্কার হলো পরিষ্কার হলো ঢাকা- সিলেট মহাসড়ক কালীগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় মালামাল উদ্ধারসহ -২ ডাকাত গ্রেফতার চৌদ্দগ্রামে আ’লীগের তান্ডবের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল পায়রা নদীতে যৌথ অভিযানে সাড়ে ৭ লাখ টাকার জাল জব্দ

নাচোলে বিএনপি নেতার বক্তব্য ভাইরাল ‘বহু ইউএনওকে লাথি মেরে অফিস থেকে বের করে দিতে পারে বিএনপি

নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:

নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, সরকারি দপ্তরে তালা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) উদ্দেশ করে বিএনপির এক নেতার দেওয়া বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভাইরাল ভিডিওতে নাচোল উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ৩ নম্বর নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামকে ইউএনওকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের কথার বাইরে গেলে আপনি এক ঘণ্টাও অফিস করতে পারবেন না। বিএনপি এমন একটি দল, আপনার মতো বহু ইউএনওকে লাথি মেরে অফিস থেকে বের করে দিতে পারে।’

সম্প্রতি ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে নাচোলে বিএনপি, ছাত্রদল ও নিয়োগবঞ্চিত সাধারণ আবেদনকারীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। গত সোমবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ আবেদনকারীরা অংশ নেন।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়সহ কয়েকটি সরকারি দপ্তরের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এতে দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা ইউএনও কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় শফিকুল ইসলামের ওই বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর মতে, দলীয় কর্মসূচিতে নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবাদ করা হলেও সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকি বা অসম্মানজনক ভাষায় বক্তব্য দেওয়া দলের ভাবমূর্তির জন্য নেতিবাচক হতে পারে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম এবং আর্থিক লেনদেন হয়েছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা ও জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের নিয়োগে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। এসব অভিযোগে নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দাস ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল রানার অপসারণ দাবি করেন তারা।

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ইউএনও কার্যালয়, সমাজসেবা কার্যালয়, শিক্ষা অফিস ও এলজিইডিসহ কয়েকটি সরকারি দপ্তরের গেটে তালা লাগিয়ে দেন।

সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের খোকন, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি আমানুল্লা আল মাসুদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুরুল হোদা, কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল মেহরাব জাকারিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মুকুল, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আজিম এবং ছাত্রদল নেতা নাহিদ ও রোমিও বক্তব্য দেন।

তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দাস। তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই ফলাফল দেওয়া হয়েছে। এরপরও বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সরকারি দপ্তরে বিক্ষোভ করে তালা লাগিয়ে দেন।

ভাইরাল বক্তব্য প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, ‘স্বাধীন দেশে যে যার মতো বক্তব্য দিচ্ছে, দাবি-দাওয়া করছে—আমাদের আর করার কী আছে।’

তিনি আরও জানান, বিক্ষোভের পর ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

এদিকে বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলামের ভাইরাল বক্তব্যের বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলা জাকারিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে জানান। তিনি খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, সরকারি দপ্তরে তালা এবং ইউএনওকে উদ্দেশ করে বিএনপি নেতার বিতর্কিত বক্তব্য—সব মিলিয়ে নাচোলে ঘটনাটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



ফেসবুকে আমরা