October 29, 2026, 10:08 am
শিরোনাম :
অপরাধ ঢাকতে সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি: ফেসবুকে জেসিকার ‘আত্মহত্যার হুমকি’ রেজিস্টারে মিলছে না হিসাব, তাহলে কৃষকের সার যাচ্ছে কোথায়? ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কাল ভোট, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে নির্বাচনি সরঞ্জাম ‎ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অংশে ডেমরা সেতু সংস্কার কাজের জন্য   ৩ কিলোমিটার জুড়ে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা রূপগঞ্জে লক্ষীপূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে হাজী মাসুমের শুভেচ্ছা বিনিময় পটুয়াখালীতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সারারাত ধরে পরিষ্কার হলো পরিষ্কার হলো ঢাকা- সিলেট মহাসড়ক কালীগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় মালামাল উদ্ধারসহ -২ ডাকাত গ্রেফতার চৌদ্দগ্রামে আ’লীগের তান্ডবের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল পায়রা নদীতে যৌথ অভিযানে সাড়ে ৭ লাখ টাকার জাল জব্দ

মশা নিধন নাকি কোটি টাকার বাণিজ্য? কীটনাশকের নামে কেরোসিন সরবরাহের অভিযোগ, টেন্ডার ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়েও উঠছে গুরুতর প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে মশার উপদ্রব কমাতে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু সেই অর্থে বাস্তবে কতটা মশা নিধন হচ্ছে—আর কতটা চলে যাচ্ছে কথিত সরবরাহকারী সিন্ডিকেটের পকেটে—তা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, কীটনাশকের নামে নিম্নমানের বা ভিন্ন ধরনের উপাদান সরবরাহ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং পরীক্ষার ধাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মশা নিধন কার্যক্রমকে বাণিজ্যে পরিণত করেছে।

বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মশা নিধনের কীটনাশক সরবরাহ ঘিরে ‘মিজান চক্র’ নামে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মশা নিধনের সরবরাহ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন মিজান নামের এক ব্যক্তি। কথিত আছে, কর্মজীবনের শুরুতে অফিস পিয়ন হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও সময়ের সঙ্গে তিনি একাধিক প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছেন এবং কীটনাশক সরবরাহের বাজারে গড়ে তুলেছেন একক আধিপত্য।

কীটনাশকের নামে কেরোসিন?

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কীটনাশক সরবরাহের মান নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, কীটনাশকের নামে সিটি কর্পোরেশনে এমন তরল সরবরাহ করা হচ্ছে, যার বড় অংশ কেরোসিনজাতীয় উপাদান। ফলে মশা নিধনে ব্যবহৃত উপকরণের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার ধাপ কীভাবে পেরিয়ে যাচ্ছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সরবরাহকৃত নমুনার স্বাধীন পরীক্ষাগার পরীক্ষা, ক্রয়সংক্রান্ত নথি, টেন্ডার ডকুমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য হলে এটি শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়; নগরবাসীর স্বাস্থ্য ও জনস্বার্থের সঙ্গেও সরাসরি জড়িত একটি গুরুতর বিষয়।

টেন্ডার থেকে পরীক্ষাগার—কোথায় কার নিয়ন্ত্রণ?

অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার আহ্বান থেকে শুরু করে দরপত্র মূল্যায়ন, কীটনাশকের নমুনা পরীক্ষা এবং সরবরাহ গ্রহণ—প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে একটি নির্দিষ্ট মহলের প্রভাব রয়েছে। এতে যোগ্য প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতার সুযোগ হারাচ্ছে কি না এবং একই চক্র ঘুরেফিরে কাজ পাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

প্রশ্ন উঠছে—কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কত টাকার কীটনাশক কেনা হয়েছে, প্রতি লিটার বা কেজির মূল্য কত ছিল, কী কী উপাদান থাকার কথা ছিল এবং বাস্তবে পরীক্ষায় কী পাওয়া গেছে?

এক যুগে পিয়ন থেকে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মালিক!

অভিযোগের আরেকটি দিক আরও বিস্ময়কর। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে সিটি কর্পোরেশনের মশা নিধন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থেকে মিজান বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারি সরবরাহের ব্যবসায় তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কোম্পানি নিবন্ধন, আয়কর নথি, ব্যাংক লেনদেন, সম্পদের বিবরণ এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

‘অবৈধ লেনদেনের’ অভিযোগ

মশা নিধনের কীটনাশক সরবরাহ ঘিরে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধাপ ম্যানেজ করতে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক কাজ করে। তবে কার সঙ্গে, কখন এবং কী পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে—এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ ছাড়া কাউকে দায়ী করা যায় না।

এ কারণে অভিযোগের বিষয়ে দুদক, সিটি কর্পোরেশনের অভ্যন্তরীণ অডিট এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা ও তদন্তকারী সংস্থার স্বাধীন অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নগরবাসীর প্রশ্ন—মশা কমছে, নাকি বাড়ছে ব্যয়ের হিসাব?

প্রতি বছর মশা নিধনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ কমছে না। ফলে মশা নিধন কার্যক্রমের বরাদ্দ, কীটনাশকের মান, ক্রয়প্রক্রিয়া ও মাঠপর্যায়ের কার্যকারিতা নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।

মশা নিধনের নামে যদি নিম্নমানের উপকরণ সরবরাহ হয়ে থাকে, কারা এর অনুমোদন দিয়েছে? টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারা সুবিধা পেয়েছে? আর সরকারি অর্থের বিনিময়ে সরবরাহ করা কীটনাশকের মান যাচাইয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর বের করতেই হবে।

প্রতিবেদনটি অভিযোগভিত্তিক; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।



ফেসবুকে আমরা