
টেন্ডার, প্রকল্পের প্রাক্কলন, বিল-ভাউচার ও সম্পদের উৎস যাচাইয়ের দাবি
জাহিদুল আলম:
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ঢাকা নগর গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানাকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া, প্রকল্পের প্রাক্কলন, বিল-ভাউচার, কাজের বাস্তব অগ্রগতি এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগে উল্লিখিত সম্পদের মালিকানা ও অর্থের উৎস যাচাইয়ের দাবিও উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা—তা নির্ধারণে প্রশাসনিকভাবে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের টেন্ডার নথি, প্রাক্কলন, কার্যাদেশ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি, কাজের পরিমাপ বই (এমবি), বিল-ভাউচার এবং বাস্তব কাজের অগ্রগতি সরেজমিন যাচাই করা হলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কর্মকর্তার নামে বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে অর্জিত বলে অভিযোগ থাকা সম্পদের মালিকানা ও অর্থের উৎসও যাচাই করা প্রয়োজন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে প্রমাণিত নয়।
এ অবস্থায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত; আর অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
বক্তব্য মেলেনি
অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা নগর গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তাঁকে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো প্রতিউত্তর পাওয়া যায়নি।
তদন্তেই মিলবে প্রকৃত চিত্র
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের ক্ষেত্রে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দায়ী করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি অভিযোগ উপেক্ষা করাও কাম্য নয়। নথিপত্র, আর্থিক লেনদেন, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং সম্পদের বৈধ উৎস যাচাইয়ের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।