August 3, 2026, 12:50 pm
শিরোনাম :
মোটরযানের জন্য বিআরটিএর কড়া নিষেধাজ্ঞা নারী থেকে দুর্নীতি—বিভিন্ন অভিযোগে আলোচনায় গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলম খান সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, ন্যায়বিচার চাইলেন শাবনুর আক্তার উন্নতমানের পণ্য ও বিশ্বস্ত সেবায় আলিফ ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেড। ২৮ লাখ টাকার জাল নোটসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে গুলশান থানা পুলিশ ঢাকার চারপাশের নৌপথ সচলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মোটরসাইকেলের সামনেও বসছে নম্বর প্লেট হানিট্র্যাপ চক্রের মূলহোতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বাউফলে মানববন্ধন ফ্যাসিবাদ উৎখাতের পর্ব শেষ, এখন দেশ গড়ার পালা : জহির উদ্দিন স্বপন মেট্রো স্টেশনে ব্যাগে থাকা বস্তু বোমা নয়, আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান ডিএমপির

নারী থেকে দুর্নীতি—বিভিন্ন অভিযোগে আলোচনায় গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলম খান

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) মোহাম্মদ বদরুল আলম খানকে ঘিরে ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সরকারি দায়িত্ব পালনে অনিয়ম, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, বদলি বাণিজ্য, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের তদন্ত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদনও করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, বদরুল আলম খানের প্রথম স্ত্রী মিসেস জেসমিন ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে অবহেলার শিকার হওয়ার দাবি করেছেন। তাঁদের তিন কন্যা সন্তান রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ সংসারজীবনে স্বামী পারিবারিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি। এ কারণে তাঁদের ছোট মেয়ে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে মিসেস জেসমিনের নামে ঢাকার হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ডিসচার্জ সার্টিফিকেট প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও তিনি স্বামীর অপেক্ষায় ছিলেন, কিন্তু ওই সময় বদরুল আলম খান অন্যত্র অবস্থান করছিলেন।

একই প্রতিবেদনে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে এবং অন্য এক নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগও তোলা হয়েছে। বিভিন্ন ছবি প্রকাশ করে দাবি করা হয়েছে, প্রথম স্ত্রীকে অবহেলা করে তিনি অন্য এক নারীর সঙ্গে বিলাসী জীবনযাপন করছেন। পাশাপাশি একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য নথি থাকার দাবিও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বদরুল আলম খানের বক্তব্য জানা যায়নি।

ব্যক্তিগত জীবনের অভিযোগের পাশাপাশি সরকারি দায়িত্ব পালনে তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদার গোষ্ঠীকে সুবিধা দিয়ে আসছেন তিনি। তাঁদের অভিযোগ, তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি নির্মাণকাজে প্রভাব বিস্তার করছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে পরিবর্তনের পর তাঁর প্রশাসনিক প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়। কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে তিনি তৎকালীন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এবং ভোলায় কর্মরত অবস্থায় সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে টেন্ডার, বদলি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করতেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও নতুন ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে সেই প্রভাব বজায় রেখেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, ভোলা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার কয়েকজন ঠিকাদারকে ঘিরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। কুমিল্লার একটি দরপত্রে ভুয়া সনদধারী ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং “আসিফ” নামের এক ঠিকাদারকে পুলিশের বিভিন্ন থানা ভবনসহ একাধিক সরকারি প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দিতে তদবির করার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।

এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, মিরপুর পাইকপাড়া আবাসিক প্রকল্পের আরবরিকালচার কাজ বিধিবহির্ভূতভাবে অন্য বিভাগের মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হয়। একইভাবে পুলিশের ১০৭টি থানা নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ভাষানটেক থানার ভবন নির্মাণের কাজও পছন্দের ঠিকাদারকে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বদরুল আলম খান, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ঢাকায় একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট, গ্রামের বাড়িতে বিলাসবহুল স্থাপনা, খামারবাড়ি, ব্যাংক হিসাব এবং বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ তাঁর ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ভাই-বোনদের নামে সম্পদ স্থানান্তর, ডেভেলপার ব্যবসায় সম্পৃক্ততা এবং আয়কর নথিতে প্রকৃত সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, বদলি বাণিজ্য এবং বিভিন্ন প্রকল্প থেকে কমিশন গ্রহণের মাধ্যমে গত কয়েক মাসে প্রায় ১২২ কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করা হয়েছে। পরে সেই অর্থ আত্মীয়স্বজনের নামে স্থানান্তর ও গোপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বদলি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ ফেব্রুয়ারি সাভার সার্কেল থেকে ঢাকা গণপূর্ত-১ সার্কেলে বদলির ক্ষেত্রে অন্য কর্মকর্তার নাম সুপারিশ থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে নিজের পছন্দের পদায়ন নিশ্চিত করেন তিনি। বদলির পরও অধিদপ্তরের প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তে তাঁর প্রভাব অব্যাহত রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, অতীতে ময়মনসিংহে কর্মরত অবস্থায় ভবনের নকশা অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছিল।

তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক সব অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।



ফেসবুকে আমরা