October 29, 2026, 1:42 pm
শিরোনাম :
অপরাধ ঢাকতে সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি: ফেসবুকে জেসিকার ‘আত্মহত্যার হুমকি’ রেজিস্টারে মিলছে না হিসাব, তাহলে কৃষকের সার যাচ্ছে কোথায়? ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কাল ভোট, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে নির্বাচনি সরঞ্জাম ‎ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অংশে ডেমরা সেতু সংস্কার কাজের জন্য   ৩ কিলোমিটার জুড়ে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা রূপগঞ্জে লক্ষীপূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে হাজী মাসুমের শুভেচ্ছা বিনিময় পটুয়াখালীতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সারারাত ধরে পরিষ্কার হলো পরিষ্কার হলো ঢাকা- সিলেট মহাসড়ক কালীগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় মালামাল উদ্ধারসহ -২ ডাকাত গ্রেফতার চৌদ্দগ্রামে আ’লীগের তান্ডবের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল পায়রা নদীতে যৌথ অভিযানে সাড়ে ৭ লাখ টাকার জাল জব্দ

মান্ডার অন্ধকার গলিতে মাদক সাম্রাজ্য: টাইগার পলাতক, সহযোগী আটক

প্রিয়া চৌধুরী

প্রিয়া চৌধুরী :

রাজধানীর মুগদা থানাধীন মান্ডা এলাকার ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলমের গলি ও মলয় মেছের গলি একসময় যেখানে স্বাভাবিক নাগরিক জীবনের নিঃশ্বাস প্রবাহিত হতো, আজ সেখানে গড়ে উঠেছে মাদক বাণিজ্যের এক নীরব অথচ ভয়ংকর অভয়ারণ্য। অভিযোগের তীর সরাসরি নিবদ্ধ কুখ্যাত মাদক কারবারি টাইগার ওরফে ইমন এবং তার সহযোগী, আত্মীয়তার সম্পর্ককে ঢাল হিসেবে ব্যবহারকারী হাসন রাজার দিকে; যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক শৈথিল্য ও আইনি প্রয়োগের দুর্বলতাকে পুঁজি করে প্রকাশ্যেই চালিয়ে যাচ্ছে মাদক সাম্রাজ্য।

এলাকাবাসীর বর্ণনায় উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক বাস্তবতা টাইগারের ‘স্পট’-এ হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইনসহ নানাবিধ মরণনেশা। আশপাশের একাধিক হটস্পট জুড়ে দিনের পর দিন এই অবৈধ বেচাকেনা অব্যাহত থাকলেও কার্যকর প্রতিরোধের অভাবে তা রূপ নিয়েছে এক প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মে। এর সরাসরি শিকার হচ্ছে এলাকার তরুণ প্রজন্ম, যারা ধীরে ধীরে এই অন্ধকার নেশার অতলে তলিয়ে যাচ্ছে।

৩০ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টায় মুগদা থানার এসআই সুমন মিয়া, এএসআই রবিউল এবং এএসআই শাহাদাত পাটোয়ারীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে মলয় মেছের গলি থেকে হাসন রাজাকে তার নিজ ঘর হতে মাদকসহ আটক করা হয়। তবে অভিযানের আগাম আভাস পেয়ে মূল হোতা টাইগার ওরফে ইমন কৌশলে পালিয়ে যায়, যা আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সামনে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

 

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসন রাজা স্বীকার করে যে, সে মাদক বিক্রি ও সেবন উভয় কর্মকাণ্ডেই জড়িত এবং উদ্ধারকৃত মাদক টাইগারের সরবরাহকৃত। আত্মীয়তার সূত্রে সে নিজেকে টাইগারের বোনের জামাই এবং টাইগারকে তার আপন শ্যালক হিসেবে পরিচয় দেয়, যা এই অপরাধচক্রের পারিবারিক জাল বিস্তারের দিকটিও স্পষ্ট করে।

এদিকে, আটক হাসন রাজাকে থানায় নেওয়ার সময় উত্তেজিত জনতার ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়ে গণপিটুনির ঘটনায় রূপ নেয়। দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে স্থানীয়দের এই প্রতিক্রিয়া যেমন আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার শঙ্কা তৈরি করে, তেমনি এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার এক করুণ প্রতিচ্ছবি হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। তবে একইসঙ্গে এলাকাবাসী মুগদা থানা পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানে আংশিক স্বস্তি প্রকাশ করে তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে।



ফেসবুকে আমরা