October 29, 2026, 3:11 pm
শিরোনাম :
অপরাধ ঢাকতে সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি: ফেসবুকে জেসিকার ‘আত্মহত্যার হুমকি’ রেজিস্টারে মিলছে না হিসাব, তাহলে কৃষকের সার যাচ্ছে কোথায়? ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কাল ভোট, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে নির্বাচনি সরঞ্জাম ‎ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অংশে ডেমরা সেতু সংস্কার কাজের জন্য   ৩ কিলোমিটার জুড়ে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা রূপগঞ্জে লক্ষীপূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে হাজী মাসুমের শুভেচ্ছা বিনিময় পটুয়াখালীতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সারারাত ধরে পরিষ্কার হলো পরিষ্কার হলো ঢাকা- সিলেট মহাসড়ক কালীগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় মালামাল উদ্ধারসহ -২ ডাকাত গ্রেফতার চৌদ্দগ্রামে আ’লীগের তান্ডবের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল পায়রা নদীতে যৌথ অভিযানে সাড়ে ৭ লাখ টাকার জাল জব্দ

শ্রমিক শোষণ, ছাঁটাই ও দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিক জোট-বাংলাদেশের সম্মেলন।

আল আমিন আবির। 

আল আমিন আবির।

 

শ্রমিক শোষণ, অন্যায় ছাঁটাই, দমন-পীড়ন বন্ধ এবং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্প-কারখানা দ্রুত চালুর দাবিতে রাজধানীতে সম্মেলন করেছে গার্মেন্টস শ্রমিক জোট-বাংলাদেশ। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সঞ্চালয় করেন এম এ সালাম,সাধারণ সম্পাদক গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশ। সভাপতিত করেন নাঈমুল হাসান জুয়েল, সভাপতি গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশ ও মেজবাহ উদ্দিন আহম্মেদ চেয়ারম্যান, এন সি সি ডাব্লিউ,ই। দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল থেকে আগত শ্রমিক প্রতিনিধি, শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মী, শ্রম অধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন।

সম্মেলনের শুরুতে দেশের শিল্পখাতের বর্তমান পরিস্থিতি, শ্রমিকদের নানামুখী সংকট এবং কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় শ্রমিকদের অন্যায়ভাবে ছাঁটাই, মজুরি বকেয়া, শ্রমিক নির্যাতন এবং ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এসব কারণে শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প। অথচ এই শিল্পের শ্রমিকরাই এখনও ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং শ্রম আইন অনুযায়ী মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে ছাঁটাই, হয়রানি ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতি বন্ধ না হলে শিল্পখাতে অস্থিরতা আরও বাড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সম্মেলনে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, অন্যায়ভাবে ছাঁটাই বন্ধ করা, শ্রমিকদের ওপর সব ধরনের দমন-পীড়ন ও হয়রানি বন্ধ করা, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানা পুনরায় চালু করা, শ্রম আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

আয়োজকদের মতে, দেশের শিল্পখাতকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক রাখতে হলে শ্রমিকবান্ধব নীতি গ্রহণ এবং শ্রমিক-মালিকের মধ্যে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা জরুরি। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

সম্মেলনে উপস্থিত বক্তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং মালিকপক্ষের প্রতি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি কর্মসূচি ঘোষণার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানানো হয়। অংশগ্রহণকারীরা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শিল্পখাতে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে সকল পক্ষকে আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।



ফেসবুকে আমরা