October 29, 2026, 8:01 am
শিরোনাম :
অপরাধ ঢাকতে সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি: ফেসবুকে জেসিকার ‘আত্মহত্যার হুমকি’ রেজিস্টারে মিলছে না হিসাব, তাহলে কৃষকের সার যাচ্ছে কোথায়? ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কাল ভোট, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে নির্বাচনি সরঞ্জাম ‎ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অংশে ডেমরা সেতু সংস্কার কাজের জন্য   ৩ কিলোমিটার জুড়ে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা রূপগঞ্জে লক্ষীপূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে হাজী মাসুমের শুভেচ্ছা বিনিময় পটুয়াখালীতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সারারাত ধরে পরিষ্কার হলো পরিষ্কার হলো ঢাকা- সিলেট মহাসড়ক কালীগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় মালামাল উদ্ধারসহ -২ ডাকাত গ্রেফতার চৌদ্দগ্রামে আ’লীগের তান্ডবের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল পায়রা নদীতে যৌথ অভিযানে সাড়ে ৭ লাখ টাকার জাল জব্দ

ডেকে নিয়ে মৃত্যু ফাঁদে,কসবায় তরুণ সাংবাদিক দ্বীন ইসলামকে পিটিয়ে হত্যা—মাদকবিরোধী কণ্ঠ স্তব্ধ, দেশজুড়ে ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা আর হলো না—নির্জন স্থানে নির্মম গণপিটুনি, আতঙ্কে সাংবাদিক সমাজ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় নেমে এসেছে শোকের কালো ছায়া। এক তরুণ, সাহসী ও প্রতিবাদী কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেল নির্মমতার আঘাতে। সাংবাদিক দ্বীন ইসলাম—যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরতেন নির্ভয়ে—শেষ পর্যন্ত সেই অন্যায়েরই শিকার হলেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলের সেই মুহূর্ত যেন এক দুঃস্বপ্ন। শিমরাইল গ্রামের মধ্যপাড়ায় নিজের বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। পরিচিত মুখ, পরিচিত ডাকে সাড়া দিয়েই বের হয়েছিলেন তিনি—কিন্তু জানতেন না, সেটিই হবে তার জীবনের শেষ পথচলা। এরপর নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে চালানো হয় বর্বর গণপিটুনি। নির্মম প্রহারে ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে যখন তাকে উদ্ধার করা হয়, তখনও হয়তো জীবনের জন্য লড়ছিলেন তিনি। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই নিভে যায় সেই সাহসী প্রাণের আলো।

দ্বীন ইসলাম—একটি নাম, যা স্থানীয়ভাবে সাহস ও প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। মাদকবিরোধী প্রতিবেদন প্রকাশ করে তিনি বহুদিন ধরেই আলোচনায় ছিলেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার অবস্থানই কি কাল হয়ে দাঁড়াল? এমন প্রশ্ন এখন ঘুরছে সবার মনে। স্থানীয়দের দাবি, তার এই নির্মম হত্যার পেছনে থাকতে পারে মাদক চক্রের প্রতিশোধ কিংবা পূর্ব শত্রুতা। কারণ সত্য বলার সাহস অনেকেরই সহ্য হয় না।

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কুমিল্লা থেকে গ্রামে ফিরেছিলেন তিনি। পরিবারকে সময় দেওয়ার সেই ছোট্ট ইচ্ছাটুকুও পূরণ হলো না। বরং পরিবারের বুকেই জেগে উঠল এক অমোচনীয় শোকের ক্ষত। এ ঘটনায় শুধু একটি পরিবার নয়,পুরো এলাকাই শোকে স্তব্ধ। ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ। তারা বলছেন—

আজ যদি একজন সাংবাদিক নিরাপদ না থাকেন,তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার দাবি করেছে। তাদের ভাষায়, এটি শুধু একজন সাংবাদিকের হত্যা নয়—এটি সত্য ও ন্যায়ের কণ্ঠরোধের চেষ্টা।

পুলিশ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের খুঁজে বের করতে একাধিক টিম কাজ করছে। তবে প্রশ্ন একটাই— কত দ্রুত মিলবে বিচার? আর কত প্রাণ ঝরলে থামবে এই নির্মমতা?



ফেসবুকে আমরা