
এল/এ শাখায় বদলির পরও থামেনি বিতর্ক; বরিশাল-ঢাকা জুড়ে ফ্ল্যাট ও সম্পদের হিসাব নিয়ে অনুসন্ধানের দাবি
ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এল/এ) শাখার সার্ভেয়ার মোঃ ফোরকানকে ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে গড়েছেন কোটি টাকার সম্পদ।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর তাকে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এল/এ শাখায় বদলি করা হয়। এর আগে তিনি বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একই পদে কর্মরত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বরিশালে দায়িত্ব পালনকালে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি কয়েক কোটি টাকা অর্জন করেন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার একজন সার্ভেয়ার জাতীয় বেতন স্কেলের ১৪তম গ্রেডভুক্ত। সব মিলিয়ে মাসিক আয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে। সেই হিসেবে একজন কর্মচারীর দীর্ঘ চাকরিজীবনেও আয় সীমিত থাকার কথা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ফোরকানের সম্পদের পরিমাণ এ হিসাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরিশাল শহরের বগুড়া রোড এলাকায় তার একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। একটি বহুতল ভবনের নবম তলায় দুটি ফ্ল্যাট, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকার বেশি। এছাড়া পাশের আরেকটি ভবনে আরও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যা বর্তমানে ভাড়া দেওয়া। সম্প্রতি একটি ফ্ল্যাট বিক্রির তথ্যও পাওয়া গেছে। রাজধানী ঢাকাতেও তার নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যেখানে পরিবারসহ বসবাস করছেন। সব মিলিয়ে তার দৃশ্যমান সম্পদের মূল্য প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
এ বিষয়ে ফোরকানের কাছে জানতে চাইলে তিনি এসব সম্পদের মালিকানা অস্বীকার করে বলেন, “এসব আমার সম্পত্তি নয়। যদি প্রমাণ হয়, তাহলে দুদক যেন তা জব্দ করে নেয়।”
তবে অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তার স্ত্রী ও স্বজনদের নামেও বেনামে আরও সম্পদ রয়েছে, যা তদন্ত হলে বেরিয়ে আসতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলে তিনি ঘনিষ্ঠ কিছু সাংবাদিকের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
এদিকে, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), ঢাকা ও বরিশাল জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনারদের কাছে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দুদক তদন্তে নামলে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে।
(চলবে—দ্বিতীয় অনুসন্ধানী পর্বে বিস্তারিত)