July 30, 2026, 2:10 pm
শিরোনাম :
ইউসুফ হত্যা: তদন্ত ভিন্নখাতে নেওয়ার অভিযোগ ‘মূল হোতাদের আড়াল করতেই রাজনৈতিকভাবে জড়ানোর চেষ্টা’ সন্তানের নামে সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখলের অধিকার থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী ডিএসসিসির ৪ হাজার ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার বাজেট কর না বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্য, উন্নয়ন খাতে ১,৯০৪ কোটি টাকা পটুয়াখালীতে হেরোইনসহ দুই নারী আটক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব গাজীপুর মহানগর শাখার সাংগঠনিক উন্নয়ন সভা সাংবিধানিক প্রশিক্ষণ ও গ্রীষ্মকালীন ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নন্দীপাড়া ব্রিজ থেকে বাসাবো বিশ্বরোড: ভাঙা সড়কে প্রতিদিন ঝুঁকি, কবে মিলবে স্বস্তি? পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থায় এগোচ্ছে সরকার শিল্পখাতে গ্যাস সংকট কাটাতে সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর মুন্সীগঞ্জে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ সিআইডি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন

শফিউল্লাহ আল মুনিরকে ঘিরে প্রতারণা ও আর্থিক অনিয়মের নানা অভিযোগ: দুদকের তদন্ত, একাধিক মামলা ও আদালতের আদেশে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্পদের উৎস নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা; একাধিক মামলার কিছুতে অব্যাহতি, আবার কয়েকটিতে অভিযোগপত্র—আইনি প্রক্রিয়া চলমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার গুলশানকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া সংগঠক শফিউল্লাহ আল মুনিরকে ঘিরে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি এবং আর্থিক অনিয়মের নানা অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান, বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলা, আদালতের আদেশ এবং বিভিন্ন অভিযোগের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর একটি অংশ এখনও তদন্ত ও বিচারাধীন।

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত শফিউল্লাহ আল মুনিরের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, তদন্ত চলাকালে দেশত্যাগ করলে অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শফিউল্লাহ আল মুনিরের নামে প্রায় ১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ কোটি ৯৫ লাখ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি বলে সংস্থাটির দাবি। অন্যদিকে তার ঘোষিত বৈধ আয়ের পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

নথি অনুযায়ী, শফিউল্লাহ আল মুনিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে রাজধানীর বনানী, গুলশান, মিরপুর, কাফরুল ও শেরেবাংলা নগর থানায় প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটিতে তদন্ত শেষে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়ে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবার কয়েকটি মামলায় তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করা হয়েছে। ফলে সেসব মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখনও চলমান।

বিভিন্ন অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যবসায়িক অংশীদার করার প্রতিশ্রুতি, বিদেশে পাঠানো, এলপিজি ডিলারশিপ, চাকরি, ব্যাংক ঋণ এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্রতিশ্রুতির অনেকগুলোই বাস্তবায়িত হয়নি এবং অর্থ ফেরতও দেওয়া হয়নি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

এ ছাড়া খাগড়াছড়িতে শিল্পপ্রকল্প, ক্যাবল কার, খুলনায় চিংড়ি ও ইথানল প্রকল্প, নদীতে সাব-জেটি নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বিনিয়োগ সংগ্রহের অভিযোগও বিভিন্ন নথিতে রয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

কিছু অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অর্থ ফেরত চাইলে ভয়ভীতি প্রদর্শন, নিরাপত্তাকর্মীর মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি এবং বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগও তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ এবং এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি।

অতীতের একটি ঘটনায় ২০০৮ সালে র‍্যাবের অভিযানে তাকে আটক করা হয়েছিল বলে সে সময়ের সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই ঘটনার বর্তমান আইনি অবস্থান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট নথিতে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে শফিউল্লাহ আল মুনিরের সঙ্গে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও শোনা যায়। তবে এ ধরনের দাবির স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শফিউল্লাহ আল মুনিরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।



ফেসবুকে আমরা