
স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা
রাজধানীর সবুজবাগ থানার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দীপাড়া ব্রিজ থেকে বাসাবো বিশ্বরোড পর্যন্ত প্রধান সড়কের বাসাবো টেম্পু স্ট্যান্ড থেকে খেলার মাঠ পর্যন্ত অংশ দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙা কার্পেটিং এবং অসমান অংশের কারণে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পথচারী ও যানবাহনচালকরা।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে কোথায় গর্ত আর কোথায় সমতল রাস্তা—তা বোঝা যায় না। এতে রিকশা, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অনেক পথচারীও হোঁচট খেয়ে আহত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “এই রাস্তায় প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। রিকশা উল্টে যাত্রী আহত হওয়া, মোটরসাইকেল পিছলে পড়ে যাওয়া এখন যেন নিত্যদিনের ঘটনা। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।”
এক ব্যবসায়ী বলেন, “দোকানে ক্রেতা আসতে সমস্যায় পড়েন। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে যানজট লেগেই থাকে। জরুরি রোগী বহনকারী গাড়িও অনেক সময় আটকে যায়।”
আরেক বাসিন্দার ভাষ্য, “আমরা নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স ও অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের কর পরিশোধ করি। কিন্তু নাগরিক হিসেবে নিরাপদ সড়ক পাওয়ার অধিকার কি আমাদের নেই?”
উন্নয়ন প্রকল্প থাকলেও প্রশ্ন রয়ে গেছে
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) চলতি বছরে জোন-৬ এলাকায় নন্দীপাড়াসহ কয়েকটি সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, নতুন অন্তর্ভুক্ত এলাকায় পরিকল্পিত সড়ক ও নাগরিক অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ চলছে।
এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেছেন, নাগরিকদের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে সেবার মান উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে কাজ করা হবে।
তবে বাসাবো টেম্পু স্ট্যান্ড থেকে খেলার মাঠ পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট সড়কাংশের সংস্কার কবে হবে—এ বিষয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী বা অঞ্চল-৬ কার্যালয়ের নির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি
স্থানীয়দের দাবি, অস্থায়ীভাবে গর্ত ভরাট নয়; টেকসইভাবে পুরো সড়ক পুনর্নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে।
সবুজবাগ ও বাসাবো এলাকার বাসিন্দারা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালামের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়ক সংস্কারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।