August 6, 2026, 1:01 am
শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জে ছা’ত্রদ’ল ও ছা’ত্রশি’বি’রের সং’ঘ’র্ষ শিবপুর হাট স্কুল মাঠে যুবদল নেতা সোহেল রানা বলেন “মাদকনিয়ন্ত্রন নয় মাদক নির্মূল করার পক্ষে আমি” গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে সরকার : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পটুয়াখালীতে নানা আয়োজনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত শিক্ষার্থীদের দিয়ে খাতা মূল্যায়ন, রাঙ্গাবালীতে শিক্ষক বরখাস্ত অভিযান চলাকালে রাস্তায় পড়ে থাকা পলিথিন মোড়ানো ব্যাগে পাওয়া গেল ৬ হাজার ২০০ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট । জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী টাকা না দিলে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে গুলির হুমকি, বরখাস্ত ৭ পুলিশ প্রশ্ন করায় সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ গণপূর্তের প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে বিনিয়োগ মানেই ৩০০ কোটির বাজারে প্রবেশের সুযোগ : ববি হাজ্জাজ

মুগদায় পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই আটক ব্যক্তি পালানোর অভিযোগ, এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য

প্রিয়া চৌধুরী

প্রিয়া চৌধুরী

রাজধানীর মুগদা থানাধীন মানিকনগর বসুন্ধরা এলাকায় পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই স্থানীয়দের হাতে আটক এক ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত রিপনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছিল। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর পরপরই তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রিপন ও তার স্ত্রী রুমা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা, হানিট্র্যাপ, চড়া সুদে অর্থ লেনদেন এবং অন্যান্য অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তাদের নামে থাকা একটি দোকানকে এসব কর্মকাণ্ডের আড়াল হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা। বাইরে থেকে দোকানটিকে নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হলেও সেখানে দৃশ্যমান কোনো বৈধ ব্যবসা পরিচালিত হতো না বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের আরও দাবি, সরকারি রাস্তা খননের সময় সেখান থেকে ইট-পাথর এনে দোকানের পাশে অবৈধভাবে মজুত করা হতো। পাশাপাশি দোকানের পাশে কথিত “খাজা বাবার আস্তানা” নামে একটি অস্থায়ী স্থাপনা গড়ে তুলে স্থানীয়দের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, কিছুদিন আগে মানিকনগরের একটি গলি থেকে ৩২ কেজি গাঁজা ও একটি প্রাইভেটকার জব্দের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার অজ্ঞাতনামা আসামিদের মধ্যে রুমা থাকতে পারেন বলে তাদের সন্দেহ। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রিপন ও রুমার কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় মাদকের বিস্তার বেড়েছে। তারা দরিদ্র ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কিছু কিশোরকে ব্যবহার করে মাদক বিক্রি করাতেন এবং স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মাদকের দিকে প্রলুব্ধ করা হতো বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এ কারণে অভিভাবকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গতকাল রাত আনুমানিক ৯টার দিকে রিপন ও রুমাকে তাদের দোকানে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের সময় আটক করার চেষ্টা করা হয়। এ সময় রুমা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। রিপনকে আটক করার পর উপস্থিত লোকজনের দাবি, তিনি মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হলে ঘটনাস্থলে মুগদা থানা পুলিশ পৌঁছে। কিন্তু একপর্যায়ে রিপন পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই পালিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কীভাবে পুলিশের উপস্থিতিতে একজন আটক ব্যক্তি পালিয়ে যেতে পারলেন—এ প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে।

এ বিষয়ে মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বা সংশ্লিষ্ট পুলিশের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে রিপন ও রুমার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং পুলিশের উপস্থিতিতে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।



ফেসবুকে আমরা