
বরগুনা প্রতিনিধি:
বরগুনার বেতাগী উপজেলার দক্ষিণ কালিকাবাড়ী গ্রাম দীর্ঘদিন ধরে বিষখালী নদীর ভয়াবহ ভাঙনের শিকার। প্রতি বর্ষা মৌসুমে নদীর তীব্র স্রোত ও অতিরিক্ত পানির চাপে ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে একের পর এক কৃষিজমি, বসতভিটার অংশ এবং জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে অদূর ভবিষ্যতে গ্রামের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার হাওলাদার (৮০), হাজী বাড়ীর বাসিন্দা, জানান, একসময় নদীর মাঝখানে যে চরটি এখন দেখা যায়, সেটিও তাদের পূর্বপুরুষের জমির অংশ ছিল। বছরের পর বছর নদীভাঙনের কারণে তাদের বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে বাপ-দাদার রেখে যাওয়া সম্পদের মধ্যে বসতভিটা ছাড়া আর তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই।
তিনি বলেন, “আমরা বছরের পর বছর নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করছি। সরকার যদি দ্রুত স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে দক্ষিণ কালিকাবাড়ী গ্রাম একসময় মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতেও একাধিকবার নদীভাঙন রোধে ব্লক (কংক্রিট ব্লক) ফেলার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে তাদের দাবি, প্রকল্পের নামে বরাদ্দ এলেও দক্ষিণ কালিকাবাড়ী এলাকায় কার্যকরভাবে কাজ বাস্তবায়ন হয়নি। এ বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে যে, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে এ এলাকার জন্য বরাদ্দকৃত ব্লক অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদনের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
বিষখালী নদী বেতাগী থেকে বরগুনা পর্যন্ত বিস্তৃত। এর মধ্যে দক্ষিণ কালিকাবাড়ী এলাকাকে স্থানীয়রা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙনপ্রবণ অঞ্চলগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করছেন। প্রতি বর্ষায় আতঙ্কে দিন কাটান শত শত পরিবার।
এলাকাবাসী বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নুর ইসলাম মনি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে নদীভাঙন রোধে টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ, কংক্রিট ব্লক স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় প্রকৌশলগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের আশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে দক্ষিণ কালিকাবাড়ীর মানুষ তাদের শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করতে পারবেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ একটি বসবাসযোগ্য এলাকা উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।