
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে পরিচ্ছন্ন পরিদর্শকদের বদলি নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পরিচ্ছন্ন পরিদর্শকদের পছন্দের ওয়ার্ডে বদলি, বদলি ঠেকানো কিংবা সুবিধাজনক কর্মস্থলে পদায়নের নামে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় রাসেল সাখাওয়াত নজিবের বিরুদ্ধে বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে তদন্ত দাবি করা হয়েছে।
একজন পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া লিখিত আবেদনে বেতন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনিয়মে সহযোগিতা না করায় প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগের পাশাপাশি বদলি-বাণিজ্যের বিষয়টিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগকারী সূত্রের দাবি, ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচ্ছন্ন পরিদর্শকদের বদলি নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পছন্দের ওয়ার্ডে বদলি, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পাওয়া কিংবা বদলি বাতিলের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে রাসেল সাখাওয়াত নজিবের বিরুদ্ধে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী পরিচ্ছন্ন পরিদর্শকের দাবি, তিনি অনিয়মে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন সময় চাকরির ক্ষতি, স্থায়ীকরণ না করা এবং প্রশাসনিক হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়। এর আগে তাকে ওয়ার্ড নং ২২ থেকে ওয়ার্ড নং ৭৫-এ বদলি করা হয়। প্রায় তিন বছর ওয়ার্ড নং ৭৫-এ দায়িত্ব পালনের পর সম্প্রতি তাকে ওয়ার্ড নং ৬৪-এ বদলি করা হয়েছে।
তার অভিযোগ, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বেতন প্রক্রিয়ায় অনিয়মে সহযোগিতা না করায় এই বদলি প্রতিশোধমূলকভাবে করা হয়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের প্রকৃত উপস্থিতি যাচাইয়ের আগেই বেতনসংক্রান্ত কাগজপত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর হয়ে যায়। ফলে প্রকৃত হাজিরার ভিত্তিতে বেতন প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। এতে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বদলি ও পদায়ন যদি অর্থের বিনিময়ে নিয়ন্ত্রিত হয়, তাহলে এটি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনস্বার্থের ওপর সরাসরি আঘাত। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট বদলি আদেশ, নথি, কর্মীদের বক্তব্য, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
দুদকের কাছে দেওয়া আবেদনে অভিযোগকারী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচ্ছন্ন কর্মীদের হাজিরা ও বেতন প্রক্রিয়া, বদলি ও পদায়নের নথি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে রাসেল সাখাওয়াত নজিবের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
প্রশ্ন উঠেছে—
ডিএসসিসির মতো একটি সিটি করপোরেশনে পরিচ্ছন্ন পরিদর্শকদের বদলি কি প্রশাসনিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে হয়, নাকি অর্থের বিনিময়ে বদলি-পদায়নের অভিযোগ সত্য? অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি এখন জোরালো হচ্ছে।