August 6, 2026, 2:01 am
শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জে ছা’ত্রদ’ল ও ছা’ত্রশি’বি’রের সং’ঘ’র্ষ শিবপুর হাট স্কুল মাঠে যুবদল নেতা সোহেল রানা বলেন “মাদকনিয়ন্ত্রন নয় মাদক নির্মূল করার পক্ষে আমি” গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে সরকার : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পটুয়াখালীতে নানা আয়োজনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত শিক্ষার্থীদের দিয়ে খাতা মূল্যায়ন, রাঙ্গাবালীতে শিক্ষক বরখাস্ত অভিযান চলাকালে রাস্তায় পড়ে থাকা পলিথিন মোড়ানো ব্যাগে পাওয়া গেল ৬ হাজার ২০০ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট । জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী টাকা না দিলে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে গুলির হুমকি, বরখাস্ত ৭ পুলিশ প্রশ্ন করায় সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ গণপূর্তের প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে বিনিয়োগ মানেই ৩০০ কোটির বাজারে প্রবেশের সুযোগ : ববি হাজ্জাজ

জেলা হাসপাতাল উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ শুরুর আগেই ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের অভিযোগ, পিডি নাফরিজা শ্যামাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রশ্ন

জাহিদুল আলম

জাহিদুল আলম

 

দেশের জেলা হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও সংস্কার প্রকল্পে আসবাবপত্র সরবরাহকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই এবং কাজ শুরু না করেই ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলনের পাঁয়তারা করা হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাফরিজা শ্যামা।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রকল্পের আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে ৩০০ কোটি টাকার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে গণপূর্তের কাঠের কারখানা বিভাগ-১ প্রায় ১৫০ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করে। অথচ টেন্ডার কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগেই এবং কোনো কাজ সম্পন্ন না করেই ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই বরাদ্দের বিপরীতে ৩ শতাংশ কমিশন নেওয়া হয়েছে। গণপূর্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নির্বাহী প্রকৌশলী ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশনের অর্থ সংগ্রহ করেন এবং প্রকল্প পরিচালকের বিদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে সেই অর্থ ডলারে পরিশোধেরও নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে দেশের অন্যতম শীর্ষ আসবাবপত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হাতিল ফার্নিচারও এই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বৈষম্যের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। গত ৮ জুন পর্যন্ত আহ্বান করা ১২টি দরপত্রের মধ্যে ৮টিতে সর্বনিম্ন দরদাতা (এল-১) হওয়া সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটিকে মাত্র একটি কার্যাদেশ দেওয়া হয়। বাকি সাতটি কার্যাদেশ স্থগিত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ।

হাতিল কমপ্লেক্স লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি মো. রেজাউল করিম এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশরাফুল হকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। একইসঙ্গে তিনি প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহাবুবুল হক চৌধুরী এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযোগ ওঠার পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হককে ডেকে ব্যাখ্যা চান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহাবুবুল হক চৌধুরী মন্ত্রীকে জানান যে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি। তবে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) অনুসরণ করা হয়নি এবং সর্বনিম্ন দরদাতাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক নাফরিজা শ্যামার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিদেশ সফর শেষে দেশে ফেরার কথা স্বীকার করেন। তবে কাজ শুরুর আগেই ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এটা কোনো অনিয়ম না।” এরপর তিনি ফোনালাপ শেষ করে দেন। পরবর্তীতে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, কাজ না করেই সরকারি অর্থ বরাদ্দ, কমিশন গ্রহণ, টেন্ডারে অনিয়ম এবং অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

তবে উল্লেখ্য, এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তদন্তকারী সংস্থা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।



ফেসবুকে আমরা