August 6, 2026, 3:57 am
শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জে ছা’ত্রদ’ল ও ছা’ত্রশি’বি’রের সং’ঘ’র্ষ শিবপুর হাট স্কুল মাঠে যুবদল নেতা সোহেল রানা বলেন “মাদকনিয়ন্ত্রন নয় মাদক নির্মূল করার পক্ষে আমি” গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে সরকার : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পটুয়াখালীতে নানা আয়োজনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত শিক্ষার্থীদের দিয়ে খাতা মূল্যায়ন, রাঙ্গাবালীতে শিক্ষক বরখাস্ত অভিযান চলাকালে রাস্তায় পড়ে থাকা পলিথিন মোড়ানো ব্যাগে পাওয়া গেল ৬ হাজার ২০০ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট । জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী টাকা না দিলে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে গুলির হুমকি, বরখাস্ত ৭ পুলিশ প্রশ্ন করায় সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ গণপূর্তের প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে বিনিয়োগ মানেই ৩০০ কোটির বাজারে প্রবেশের সুযোগ : ববি হাজ্জাজ

জলাবদ্ধতায় নাকাল পটুয়াখালীবাসী, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহনের প্রত্যাশা

অপূর্ব সরকার, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

জলাবদ্ধতায় নাকাল পটুয়াখালীবাসী, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহনের প্রত্যাশা

অপূর্ব সরকার, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও টানা ভারী বর্ষনের ফলে জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে পটুয়াখালী পৌরবাসী। আবহাওয়া বিভাগের দেয়া তথ্য মতে পটুয়াখালীতে শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৫১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এখন পর্যন্ত যা দেশের সর্বোচ্চ পরিমান। ড্রেন দিয়ে অতি ভারী বর্ষণের পানি অপসারণ না হওয়ায় শহরের সদর রোড, এসডিও রোড, স্বনির্ভর রোড, স্বর্ণকার পট্টি, পুরান বাজার, বনিক পট্টি, সেন্টার পাড়া, মহিলা কলেজ রোড, পুরান হাসপাতাল রোড, এলজিইডি রোড, গোরস্থান রোড সহ বিভিন্ন নিচু এলাকার ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানিতে প্লাবিত হয়ে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।

এই জলাবদ্ধতার জন্য অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পলি জমে কাঁচা ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়া সহ ময়লা পরিস্কারে পৌরসভার উদাসীনতাকে দায়ী করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পৌর শহরের বাসিন্দা মোঃ সুলতান মিয়া বলেন, বাতভর টানা বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি এমনকি বাসাবাড়িও পানিতে তলিয়ে গেছে। ঘরের মেঝেতে পানি ঢুকে পড়ায় আতঙ্কে রাত কাটিয়েছি। ড্রেনগুলো দিয়ে পানি দ্রুত বের হতে না পারায় মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। অনেক জায়গায় ড্রেন আছে কিন্তু এক ড্রেনের সঙ্গে অন্য ড্রোনের সংযোগ নেই। ড্রেনের মুখ বন্ধ পানি সরতে পারে না। প্লাস্টিকের বোতল ও পলিথিনে ড্রেনের মুখ আটকে থাকে। অনেক জায়গায় কাঁচা ড্রেন পরিষ্কার না করায় সেখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পৌরবাসী এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি চায়। সময় মত পৌরকরসহ অন্যান্য কর পরিশোধ করা সত্ত্বেও বর্ষার দিনে পৌরবাসী জলাবদ্ধতায় নাকাল হয়। গতরাতে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারেনি। ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা পার্থ বলেন, “গত রাতে বাসার উঠান ও নিচতলায় পানি উঠে যায়। সকালে পানি কিছুটা কমলেও অনেক জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে। প্রতিবছর বর্ষায় একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে আমাদের এই এলাকার ড্রেনটি এখনো কাঁচা। তার ওপর ড্রেনে পলি জমে থাকায় বৃষ্টি হলেই আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়ি। এছাড়া এই জমে থাকা পানিতে মশার উৎপত্তি হয়। পৌর প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ আশা করি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। বিশেষ করে কাঁচা ড্রেন ও নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে বাসাবাড়ি ও সড়কে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

রিকশাচালক মো. কবির মোল্লা বলেন, “সারা রাতের বৃষ্টিতে রাস্তাঘাটে পানি জমে গেছে। রিক্সা চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। রিকশা চালাতে গেলে মানুষের গায়ে পানি ছিটে যাচ্ছে। মানুষ রাস্তায় হাঁটতে পারছে না। আর আমাগো গরিবের কথা না হয় বাদই দিলাম। একটু বৃষ্টি হইলেই ঘরের মধ্যে পানি জমে। সাপ খোপের আতঙ্কে থাকি।

দিনমজুর মো. মালেক সরদার বলেন, ” আমরা বস্তিতে থাকি বৃষ্টি হইলেই বাসা বাড়ির মধ্যে পানি ঢুইকা যায়। পোলাপান নিয়ে থাকতে অনেক কষ্ট হয়। রান্নাবান্না করতে অন্য জায়গায় যাওয়া লাগে। ড্রেন গুলো ঠিকঠাক থাকলে এই সমস্যা আর হইতো না।

পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন বলেন, “আমার বাসা শহরের গোরস্থান রোডে। বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই বাসার সামনে সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এমনকি ঘরের মধ্যেও পানি জমে থাকে। পানির জন্য বাসা থেকে বের হতে পারি না। ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না। মানুষের জন্য এর থেকে বড় ভোগান্তি আর কি হতে পারে। পৌর শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি না হলে মানুষের দুর্ভোগ কাটবেনা।”

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৫১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপ-সচিব) জুয়েল রানা গণমাধ্যমকে বলেন, অতিমাত্রার বৃষ্টির কারণে শহরের অনেক রাস্তায় পানি জমে যায়। বৃষ্টি থামার সাথে সাথেই নিষ্কাশন কাজে নিয়োজিত কর্মীদেরকে দিয়ে আমরা জলবদ্ধতা নিরসনে কাজ শুরু করি। শহরের জলবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ সিস্টেমকে পুরোপুরি কার্যকরী করতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক প্রকল্প জমা দিয়েছি, ওই প্রকল্পগুলির অনুমোদন পাওয়া গেলে শহরের জলবদ্ধতা নিরসন হয়ে যাবে বলে আশা রাখি। অতিমাত্রার বৃষ্টির কারণে জমে থাকা পানি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শহর থেকে নেমে গেছে, এছাড়া নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় শহর থেকে পানি নিষ্কাশন কিছুটা বাধাগ্রস্থ হয়েছে।



ফেসবুকে আমরা