July 30, 2026, 12:04 pm
শিরোনাম :
ইউসুফ হত্যা: তদন্ত ভিন্নখাতে নেওয়ার অভিযোগ ‘মূল হোতাদের আড়াল করতেই রাজনৈতিকভাবে জড়ানোর চেষ্টা’ সন্তানের নামে সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখলের অধিকার থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী ডিএসসিসির ৪ হাজার ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার বাজেট কর না বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্য, উন্নয়ন খাতে ১,৯০৪ কোটি টাকা পটুয়াখালীতে হেরোইনসহ দুই নারী আটক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব গাজীপুর মহানগর শাখার সাংগঠনিক উন্নয়ন সভা সাংবিধানিক প্রশিক্ষণ ও গ্রীষ্মকালীন ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নন্দীপাড়া ব্রিজ থেকে বাসাবো বিশ্বরোড: ভাঙা সড়কে প্রতিদিন ঝুঁকি, কবে মিলবে স্বস্তি? পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থায় এগোচ্ছে সরকার শিল্পখাতে গ্যাস সংকট কাটাতে সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর মুন্সীগঞ্জে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ সিআইডি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন

এনআরবিসি ব্যাংকে নিয়োগ বাণিজ্য, প্রশাসনিক অস্থিরতা ও সুশাসন সংকটের অভিযোগ; উদ্বিগ্ন কর্মকর্তা-শেয়ারহোল্ডাররা

জাহিদুল আলম

 

জাহিদুল আলম:

 

দেশের বেসরকারি খাতের আলোচিত ব্যাংকগুলোর অন্যতম এনআরবিসি ব্যাংক-এ নিয়োগ বাণিজ্য, প্রশাসনিক অদক্ষতা, অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট গঠন এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে। ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা, গ্রাহক ও উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার এসব অভিযোগ তুলে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত অন্তর্বর্তী পর্ষদের মাধ্যমে ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে ওঠে। ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদুল আলম খানের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেন, গত এক বছরে বিভিন্ন দুর্বল ও সংকটে থাকা ব্যাংক থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের একটি অংশকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলেও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের অনেককে কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রাখা হয়েছে। এতে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা বাড়ছে।

এদিকে ব্যাংকের ব্যবসায়িক সূচকও নিম্নমুখী হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন আমানত সংগ্রহ, ঋণ পুনরুদ্ধার এবং গ্রাহকসেবা বৃদ্ধির পরিবর্তে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বেই বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ করপোরেট গ্রাহক ব্যাংকটির সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করছে বলেও জানা গেছে।

সম্প্রতি ফরেনসিক অডিট সংক্রান্ত কিছু তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশের ঘটনাও ব্যাংকের অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যাংকের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, অডিটের কিছু তথ্য প্রসঙ্গবহির্ভূতভাবে উপস্থাপন করায় প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের ভাষ্য, অডিটে উত্থাপিত অনেক বিষয় ছিল নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ ও সিস্টেম ব্যবস্থাপনার অংশ, যা ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ব্যবসা সম্প্রসারণ ও ঋণ পুনরুদ্ধারের পরিবর্তে ব্যবস্থাপকদের ওপর নির্দিষ্ট খাতে ঋণ বিতরণের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। কিছু কর্মকর্তা স্ট্যাম্প সরবরাহ ও অন্যান্য ভেন্ডর ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

ব্যাংকের উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের একাংশের দাবি, আসন্ন বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ঘিরে পূর্ববর্তী পরিচালনা পর্ষদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চলছে। তারা দ্রুত পর্ষদ পুনর্গঠন করে উদ্যোক্তা প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তবে ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করেন, এনআরবিসি ব্যাংককে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

ব্যাংকের কর্মকর্তা, গ্রাহক ও উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের মতে, দ্রুত সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।



ফেসবুকে আমরা