October 29, 2026, 4:21 am
শিরোনাম :
অপরাধ ঢাকতে সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি: ফেসবুকে জেসিকার ‘আত্মহত্যার হুমকি’ রেজিস্টারে মিলছে না হিসাব, তাহলে কৃষকের সার যাচ্ছে কোথায়? ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কাল ভোট, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে নির্বাচনি সরঞ্জাম ‎ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অংশে ডেমরা সেতু সংস্কার কাজের জন্য   ৩ কিলোমিটার জুড়ে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা রূপগঞ্জে লক্ষীপূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে হাজী মাসুমের শুভেচ্ছা বিনিময় পটুয়াখালীতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সারারাত ধরে পরিষ্কার হলো পরিষ্কার হলো ঢাকা- সিলেট মহাসড়ক কালীগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় মালামাল উদ্ধারসহ -২ ডাকাত গ্রেফতার চৌদ্দগ্রামে আ’লীগের তান্ডবের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল পায়রা নদীতে যৌথ অভিযানে সাড়ে ৭ লাখ টাকার জাল জব্দ

বানারীপাড়া ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মীজানের কোটি টাকার সম্পদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি চাকরি, নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো—তবুও বরিশাল নগরীর অভিজাত এলাকায় চারতলা ভবন। সঙ্গে সঞ্চয়পত্রে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ। এসব সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বানারীপাড়া উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ মীজানুর রহমান বাদলকে ঘিরে।

সাগরদীতে ‘ঐশী মঞ্জিল’: ব্যয়বহুল স্থাপনা নিয়ে আলোচনা : বরিশাল নগরীর সাগরদী এলাকায় ২০১৮ সালে নির্মিত চারতলা ভবন “ঐশী মঞ্জিল” স্থানীয়দের কাছে একটি ব্যয়বহুল স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। এলাকাবাসীর ভাষ্য, ভবনটির নির্মাণ ব্যয় কয়েক কোটি টাকার কম নয়। তবে এ ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট অঙ্ক বা নির্মাণ-সংক্রান্ত আর্থিক নথি প্রকাশ্যে আসেনি।

দায়িত্বের সীমা ও অভিযোগের সূত্র : বর্তমানে বানারীপাড়া উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত মীজানুর রহমান বাদল এর আগে পিরোজপুর এস.এ শাখায় দায়িত্ব পালন করেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, তিনি খাস জমি বন্দোবস্ত, নামজারি, রেকর্ড সংশোধন ও খাস মহল সংক্রান্ত নথি প্রক্রিয়াকরণে যুক্ত ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনের সময় তিনি প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সুবিধা দিয়েছেন। যদিও ভূমি সার্ভেয়ারের দায়িত্ব মূলত জমি পরিমাপ, রেকর্ড যাচাই ও কারিগরি তথ্য সরবরাহে সীমাবদ্ধ—তবুও অভিযোগকারীরা বলছেন, মালিকানা ও নামজারি প্রক্রিয়ায়ও প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটেছে। এ অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পায়নি।

সম্পদের বিস্তার- ভবন ছাড়াও সঞ্চয়পত্র : অনুসন্ধানে জানা গেছে, তার স্ত্রীর নামে সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের তথ্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিনিয়োগের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। সরকারি বেতন কাঠামো অনুযায়ী একজন সার্ভেয়ারের আয় সীমিত। সে তুলনায় অল্প সময়ে ভবন নির্মাণ ও বিনিয়োগের বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে। তবে সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ও অর্থের উৎস সম্পর্কে সরকারি কোনো যাচাইকৃত তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি।

অভিযুক্তের বক্তব্য : মীজানুর রহমান বাদল তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে গণমাধ্যম কর্মীকে জানান, ভবন নির্মাণে তার পিতার সরকারি চাকরির পেনশনের অর্থ ও নিজের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আয়কর বিবরণীতে ভবনের তথ্য উল্লেখ রয়েছে এবং তিনি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন।

প্রশাসনের অবস্থান : বানারীপাড়া উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানিয়েছেন, তাদের দপ্তরে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভূমি প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হলে প্রয়োজন হবে—আয়কর বিবরণী পর্যালোচনা, ব্যাংক হিসাব যাচাই, সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের তথ্য পরীক্ষা, সম্পদের ঘোষণাপত্র মিলিয়ে দেখা

আইনি ও জনস্বার্থের প্রশ্ন ? জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তার সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা কেবল ব্যক্তিগত বিষয় থাকে না; এটি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে পরিণত হয়।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা দুর্নীতির আওতায় পড়তে পারে, আবার অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে তা ব্যক্তিগত সুনামের ওপর আঘাত হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

তাই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্তই একমাত্র উপায়—যার মাধ্যমে সম্পদের উৎস, কর পরিশোধ ও আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

বর্তমানে মীজানুর রহমান বাদলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়নি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়—অভিযোগগুলো প্রশাসনিক অনুসন্ধানে রূপ নেয় কিনা, নাকি কেবল জনমুখে সীমাবদ্ধ থাকে।



ফেসবুকে আমরা