October 29, 2026, 2:34 am
শিরোনাম :
অপরাধ ঢাকতে সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি: ফেসবুকে জেসিকার ‘আত্মহত্যার হুমকি’ রেজিস্টারে মিলছে না হিসাব, তাহলে কৃষকের সার যাচ্ছে কোথায়? ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কাল ভোট, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে নির্বাচনি সরঞ্জাম ‎ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অংশে ডেমরা সেতু সংস্কার কাজের জন্য   ৩ কিলোমিটার জুড়ে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা রূপগঞ্জে লক্ষীপূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে হাজী মাসুমের শুভেচ্ছা বিনিময় পটুয়াখালীতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সারারাত ধরে পরিষ্কার হলো পরিষ্কার হলো ঢাকা- সিলেট মহাসড়ক কালীগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় মালামাল উদ্ধারসহ -২ ডাকাত গ্রেফতার চৌদ্দগ্রামে আ’লীগের তান্ডবের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল পায়রা নদীতে যৌথ অভিযানে সাড়ে ৭ লাখ টাকার জাল জব্দ

সওজে প্রশাসনিক সংস্কার প্রশ্নের মুখে: অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ.কে.এম আজাদকে ঘিরে প্রভাববলয় ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)-এ দীর্ঘদিন ধরে চলমান প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা ও সিন্ডিকেট কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দপ্তরের একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ.কে.এম আজাদ রহমানকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে, যা বদলি, প্রকল্প অনুমোদন ও বিদেশ সফর ব্যবস্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে আসছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে গঠিত ট্রুথ কমিশন-এর মুখোমুখি হয়েছিলেন এ.কে.এম আজাদ রহমান। পরবর্তীতে তিনি আবার প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরে আসেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তার দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক যোগাযোগ তাকে পুনরায় প্রভাবশালী অবস্থানে নিয়ে আসে। তিনস্তরের সিন্ডিকেট কাঠামোর অভিযোগ দপ্তরের ভেতরের একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সওজে কথিত সিন্ডিকেটটি তিনটি স্তরে পরিচালিত হয়—

১. বদলি বাণিজ্য সিন্ডিকেট: গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও বদলির মাধ্যমে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।

২. প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ সিন্ডিকেট: টেন্ডার ও প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার।

৩. অর্থপাচার সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম: বিদেশ সফর ও প্রকল্প ব্যয়ের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগ।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই কাঠামোর সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেন এ.কে.এম আজাদ রহমান এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে প্রকৌশলী নুরু ইসলাম প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করেন।

বিদেশ সফর ও অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন গত বছরের আগস্টের পর একাধিক কর্মকর্তার বিদেশ সফর অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, এসব সফরের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দুবাই ও যুক্তরাজ্যে সফরকে ঘিরে অর্থ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক প্রভাব ও পদায়ন বিতর্ক সওজের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান-এর নেতৃত্বেও প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস নিয়ে আলোচনা রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা জোনে পদায়নসহ একাধিক বদলি প্রজ্ঞাপনে প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের পুনঃস্থাপন নিয়ে দপ্তরের ভেতরে ও বাইরে সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক সংস্কারের সময় যদি বিতর্কিত বা আলোচিত কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকেন, তবে কাঙ্ক্ষিত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

জনদুর্ভোগ ও অবকাঠামো প্রশ্ন সওজের কাজের মান ও রাস্তাঘাটের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, প্রকল্প বিলম্ব ও রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতির অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা জোরদার না হলে অবকাঠামো উন্নয়ন টেকসই হবে না। সংস্কারের চ্যালেঞ্জ

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসনিক সংস্কার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ প্রভাববলয় ভেঙে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা বড় চ্যালেঞ্জ। সাবেক এক সচিবের ভাষায়, “যতদিন প্রভাবশালী চক্রের নিয়ন্ত্রণ থাকবে, ততদিন সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন কঠিন হবে। ”সব মিলিয়ে, সওজে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ.কে.এম আজাদ রহমান ও তার সহযোগীদের ঘিরে ওঠা অভিযোগ এখন প্রশাসনিক সংস্কার আলোচনার কেন্দ্রে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে পরিস্থিতি পরিষ্কার করা—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।



ফেসবুকে আমরা