
ঢাকার আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের ফাইল অনুমোদনে কমিশন নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফাইল স্বাক্ষর ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে তিনি নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন।
অভিযোগে বলা হয়, প্রতিটি ফাইল প্রক্রিয়াকরণে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হচ্ছে। এমনকি অর্থ প্রদান ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ফাইলেও স্বাক্ষর করা হয় না—এমন অভিযোগও উঠেছে। সরকারি প্রকল্পে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন থাকায় নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে অনিয়মের অভিযোগ প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গণপূর্ত অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অন্যতম দায়িত্ব। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, আইনি দায়ও সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ ধরনের অভিযোগ তদন্ত করার ক্ষমতা রাখে। অভিযোগ পেলে দুদক প্রাথমিক অনুসন্ধান পরিচালনা করে এবং প্রমাণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।
সুশাসন বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি প্রকল্পে কমিশন বা অনৈতিক আর্থিক লেনদেন যুক্ত হলে তা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ঘটায়, প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি করে এবং নির্ধারিত সময়সূচি ব্যাহত করে। পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়।
তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো বক্তব্য মেলেনি।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্ত জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশাসনিক শুদ্ধতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এমন অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা সচেতন মহলের।