October 29, 2026, 1:33 am
শিরোনাম :
অপরাধ ঢাকতে সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি: ফেসবুকে জেসিকার ‘আত্মহত্যার হুমকি’ রেজিস্টারে মিলছে না হিসাব, তাহলে কৃষকের সার যাচ্ছে কোথায়? ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কাল ভোট, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে নির্বাচনি সরঞ্জাম ‎ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অংশে ডেমরা সেতু সংস্কার কাজের জন্য   ৩ কিলোমিটার জুড়ে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা রূপগঞ্জে লক্ষীপূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে হাজী মাসুমের শুভেচ্ছা বিনিময় পটুয়াখালীতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সারারাত ধরে পরিষ্কার হলো পরিষ্কার হলো ঢাকা- সিলেট মহাসড়ক কালীগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় মালামাল উদ্ধারসহ -২ ডাকাত গ্রেফতার চৌদ্দগ্রামে আ’লীগের তান্ডবের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল পায়রা নদীতে যৌথ অভিযানে সাড়ে ৭ লাখ টাকার জাল জব্দ

কাগজে ১০০% কাজ, মাঠে শূন্য বাস্তবতা’: গণপূর্তে ৭৮ লাখ টাকার বিল বিতর্ক ৫% ঘুষ না দিলে ফাইলে স্বাক্ষর নয়—এমন অভিযোগ নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দকৃত প্রায় ৭৮ লাখ টাকার কাজ বাস্তবে সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর–এর শেরে বাংলা নগর বিভাগ–২–এর নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে অসম্পূর্ণ কাজকে “১০০% সম্পন্ন” দেখিয়ে অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতায় শ্যামলীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল, মোহাম্মদপুরের ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার এবং ১০০ শয্যার মা ও শিশু হাসপাতালের সংস্কার ও মেরামত কাজে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে অর্থবছর শেষের প্রাক্কালে অস্বাভাবিক তড়িঘড়ি করে দরপত্র আহ্বান ও কার্যাদেশ প্রদান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, মাঠপর্যায়ে কাজের বড় অংশ অসম্পূর্ণ থাকলেও নথিতে প্রকল্পগুলো শতভাগ শেষ দেখানো হয়। জুন মাসের মধ্যেই ঠিকাদারদের সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক সময় দ্রুততা দেখানো হলেও বাস্তব কাজ ছাড়া বিল পরিশোধ সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা বিধির লঙ্ঘন।

তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সব কাজই LTM (Limited Tendering Method) পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হয়েছে, যেখানে অংশ নিয়েছে এক বা দুইজন ঠিকাদার। অভিযোগ উঠেছে, একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট বছরের পর বছর একইভাবে কাজ পেয়ে আসছে। পিপিআর অনুযায়ী দরপত্রে পর্যাপ্ত প্রতিযোগিতা না থাকলে তা বাতিলের বিধান থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ।

মাঠপর্যায়ের চিত্রে দেখা গেছে—টিবি হাসপাতালের সংস্কার কাজের মাত্র ২০–৩০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। মা ও শিশু হাসপাতালের বিভিন্ন সেকশনে কাজ শুরুই হয়নি। ফার্টিলিটি সেন্টারের কিছু ভাঙা অংশও আগের অবস্থায় রয়েছে। অথচ অফিসিয়াল প্রতিবেদনে এসব প্রকল্পকে “সম্পূর্ণ ও ব্যবহারযোগ্য” হিসেবে দেখানো হয়েছে।

অভিযোগের আরেকটি গুরুতর দিক হলো—প্রতিটি কাজ থেকে ৫% ঘুষ নেওয়ার দাবি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ঘুষ প্রদান না করলে সংশ্লিষ্ট ফাইলে স্বাক্ষর বা অনুমোদন দেওয়া হয় না, ফলে বিল আটকে থাকে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, যথাযথ অনুমোদন ও প্রত্যয়নপত্র পাওয়ার পরই বিল পরিশোধ করা হয়েছে এবং সব প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে তদন্ত–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রত্যয়ন প্রক্রিয়াটিও নিয়ন্ত্রিত ছিল এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে নথির মিল পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে এটি শুধু একজন কর্মকর্তার অনিয়ম নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় সরকারি অর্থ অপচয় ও অনিয়মের সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।



ফেসবুকে আমরা